মহাশোরগোল প্রতিবেদন: সফটবলের মতো একটি আকর্ষণীয় খেলাকে পশ্চিমবঙ্গে কেন ব্রাত্য করে রেখেছে বেঙ্গল অলিম্পিক কমিটি, তা বোধগম্য নয়। খেলাটি অনেকের কাছেই নতুন। কারণ এ খেলার তেমন প্রচার নেই। প্রকৃতপক্ষে ক্রিকেট এবং ফুটবল ছাড়া আর অন্য কোনও খেলার প্রচারে সংবাদমাধ্যম সাধারণত সেভাবে গুরুত্ব দেয় না। অথচ যে খেলাগুলিতে অলিম্পিক গেমসে ভারত অংশগ্রহণ করে, সেগুলির প্রচার বেশি হলে খেলোয়াড়রা উৎসাহিত এবং উদ্দীপ্ত হবেন। হয়তো ভবিষ্যতে অলিম্পিক মেডেলও বেশি আসবে।
গত ৫ এবং ৬ এপ্রিল হাওড়ার আমতায় আইপিএল-এর আদলে অনুষ্ঠিত হয়েছে আটটি পুরুষ এবং আটটি মহিলা দল নিয়ে লিগ কাম নকআউট পর্যায়ের সফটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। পুরুষ এবং মহিলা উভয় বিভাগে অংশগ্রহণ করে জলপাইগুড়ি জেলা দল, রানাঘাট ফ্রেন্ডস ক্লাব, গৌর মালদা, বি কে টি এস, অ্যাকাডেমি ঝাড়খণ্ড, বীরভূম রাইডারস, শিবাজি স্পোর্টস অ্যাকাডেমি। শুধু পুরুষ বিভাগে অংশগ্রহণ করে দত্তফুলিয়া আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থা। শুধু মহিলা বিভাগে অংশগ্রহণ করে বেঙ্গল বাইসন।
পুরুষ এবং মহিলা উভয় বিভাগে জলপাইগুড়ি জেলা দল চ্যাম্পিয়ন এবং রানাঘাট ফ্রেন্ডস ক্লাব রানার্সআপ হয়েছে। পুরুষ বিভাগে বীরভূম তৃতীয় স্থান এবং মহিলা বিভাগে বেঙ্গল বাইসন ক্লাব (কল্যাণী) তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।
গত ২৫ থেকে ৩০ মার্চ তাইপে-তে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অনূর্ধ্ব ১৫ বালিকাদের এশিয়া কাপ সফটবল প্রতিযোগিতা, যেখানে ভারতীয় দলও অংশগ্রহণ করেছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিনিয়র পুরুষ এবং মহিলা বিভাগে এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিক গেমসে খেলাটি অন্তর্ভুক্ত আছে। আমাদের দেশেও সফটবল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া প্রতিবছর জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক খেলার আয়োজন করে থাকে।



গতবার সিনিয়র জাতীয় সফটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে। পুরুষ বিভাগে ছত্তিশগড় চ্যাম্পিয়ন এবং মধ্যপ্রদেশ রানার্সআপ হয়েছিল। তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থান লাভ করে যথাক্রমে, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান। মহিলা বিভাগে মহারাষ্ট্র চ্যাম্পিয়ন এবং পঞ্জাব রানার্সআপ হয়েছিল। তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থান দখল করেছিল যথাক্রমে, কেরালা এবং মধ্যপ্রদেশ। বাংলা দলও অমরাবতীতে সিনিয়র ন্যাশনালে অংশগ্রহণ করেছিল। এই জাতীয় প্রতিযোগিতা প্রতিবছর বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল সফটবল অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে নদিয়ার দত্তপুলিয়ায় পুরুষ এবং মহিলাদের জাতীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত বছর ডিসেম্বরে পুরুষ এবং মহিলা বিভাগে রাজ্য সফটবল প্রতিযোগিতা দত্তপুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রাজ্যের ১৮টি জেলা দল ওই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল।
এমন একটি খেলাকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে সাধারণ সম্পাদক হেমলাল মণ্ডলের নেতৃত্বে ওয়েস্ট বেঙ্গল সফটবল অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন জেলায় ক্যাম্প করে খেলাটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসাবে ওয়েস্ট বেঙ্গল সফটবল অ্যাসোসিয়েশন গত দু’বছর ধরে আই পি এল-এর ধাঁচে আটটি পুরুষ এবং আটটি মহিলা দল নিয়ে বেঙ্গল সফটবল প্রিমিয়ার লিগের আয়োজন করছে। এ বছর হাওড়ার আমতায় এই প্রতিযোগিতা করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শিবাজি স্পোর্টিং ক্লাবকে। তারা পুরুষ এবং মহিলা দলের খেলোয়াড়, দলের ম্যানেজার, খেলা পরিচালনার আম্পায়ার এবং রাজ্য সফটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। রাজ্য এবং জাতীয় পর্যায়ের আম্পায়াররা এই খেলা পরিচলনা করেন। পুরুষ এবং মহিলা উভয় বিভাগে প্রথম থেকে চতুর্থ স্থান অধিকারী দলকে প্রাইজ মানি-সহ ট্রফি দেওয়া হয়।
বেঙ্গল সফটবল প্রিমিয়ার লিগ টুর্নামেন্টে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরশিক্ষা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সন্দীপশঙ্কর ঘোষ, রাজ্য সফটবল সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক ড. সুজিতকুমার দাস, মুর্শিদাবাদ জেলা সফটবল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় দাস, অধ্যাপক ড. সর্বেশ্বর কোনাই, রাজ্য সফটবল কমিটির টেকনিক্যাল চেয়ারম্যান অমিতকুমার মণ্ডল, জাতীয় স্তরের সফটবল খেলোয়াড় তথা আম্পায়ার রাখি মণ্ডল, তমা মণ্ডল এবং সোমা মণ্ডল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সমাজসেবী তাপস বাকুলি এবং রাজ্য শুটিং সংস্থার কোষাধ্যক্ষ এবং সহ-সম্পাদক। ওয়েস্ট বেঙ্গল সফটবল অ্যসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হেমলাল মণ্ডল এবং অর্গানাইজিং কমিটির সম্পাদক আমন গোস্বামীর অক্লান্ত পরিশ্রমে টুর্নামেন্টটি সফল হয়েছে।
