অজয় ভট্টাচার্য

ধান গাছেই মিলতে পারে রুপোর মতো মূল্যবান ধাতু। এও কি সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। আইআইটি, মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এটি প্রমাণ করেছেন। প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে বিভিন্ন ধাতু মিশে থাকে। উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে মাটি থেকে যে খাদ্যরস শোষণ করে, তার মধ্যে ধাতব লবণ ও মৌলগুলিও থাকে। এই উপাদানগুলির সবক’টি উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নয়, অথচ শোষণের চাপে অপ্রয়োজনীয় উপাদানগুলিও চলে আসে। যেমন, আমরা শ্বাসকার্যের জন্য বাতাস থেকে অক্সিজেন নিই আর কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আাদের নাসিকা ছিদ্রে কোনও ফিল্টার রাখা নেই যে, আমরা বাতাসে থাকা বিভিন্ন গ্যাসের মধ্যে কেবলই অক্সিজেন গ্যাসকে বেছে নেব। তাই শ্বাসবায়ুর মাধ্যমে চলে আসে সবই। তার মধ্যে আমাদের শরীর অক্সিজেনকে কাজে লাগায়। প্রমাণস্বরূপ বলা যায়, দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। বাতাসে কোনও বিষাক্ত উপাদান থাকলে মৃত্যুও হতে পারে। সে কারণে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
মাটি থেকে টেনে নেওয়া খাদ্যরস থেকেই উদ্ভিদ ধাতু সঞ্চয় করে। ধাতু সঞ্চয়ের ক্ষমতা কোনও উদ্ভিদের বেশি, কোনও উদ্ভিদের কম। ধান গাছের এ ক্ষমতা কেমন, তা পরীক্ষা করে জানার জন্য বিজ্ঞানীরা বেছে নিয়েছিলেন ৫০৫ রকমের ধানের প্রজাতি। তার মধ্যে বিজ্ঞানীরা এমন ৯টি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন, যারা এ বিষয়ে বিশেষভাবে পারদর্শী। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় ‘গরিব সাল’ নামক একটি বিশেষ প্রজাতির ধান চাষের প্রচলন ছিল। সে ধান গাছের রুপো সঞ্চয়ের ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। এ প্রজাতির গাছ প্রতি কেজি ধানে ১৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত রুপো সঞ্চয় করার ক্ষমতা রাখে। এমনকী যেখানে প্রাকৃতিকভাবে প্রতি কেজি মাটিতে মাত্র ০.০১ মিলিগ্রাম রুপো থাকতে পারে, সেখানেও প্রতি কেজি ধানে ০.২০ মিলিগ্রাম রুপো পাওয়া যেতে পারে। এ চাল খাওয়া কি নিরাপদ? রুপো বেশি জমা হয় ধানের তুষ এবং চালের খোসায়। তাই ভালোভাবে পালিশ করা চাল থেকে এসব ধাতু সংক্রমণের কোনও ভয় থাকে না।
ধান চাষের মাধ্যমে কি বাণিজ্যিকভাবে রুপো উৎপাদন সম্ভব? হ্যাঁ, তাও সম্ভব। আগামী দিনে এ বিকল্পটিও হাতে থাকছে। তবে যে উৎস থেকে সহজ এবং সুলভে ধাতু নিষ্কাশন সম্ভব হয়, সেটাই ব্যবহার করা হয় এ কাজে।
