অধ্যাপক ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ

৩০ নভেম্বর শেষ হল কোচবিহারের ঐতিহ্যমণ্ডিত রাসমেলা। গত ১৬ নভেম্বর কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে রাসচক্র ঘুরিয়ে পক্ষকালব্যাপী কোচবিহারের ঐতিহ্যমণ্ডিত রাসযাত্রার শুভসূচনা করেছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি তথা কোচবিহারের জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা। আর পরের দিন তিনিই পূর্ব ভারতের বৃহত্তম রাসমেলারও উদ্বোধন করেছিলেন। ২১৩ বছরে পদার্পণ করা এই মেলায় কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েত হয়েছিল।
অনেকটা এলাকা জুড়ে কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ। বহুরকম পসরা নিয়ে তিন হাজারেরও বেশি দোকানদার প্রতিবছর এই মেলায় হাজির হন। এখন যে কোনও মেলার প্রধান বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান। মেলা মানেই জিলিপি। এই মেলার বৈশিষ্ট্য হল ভেটাগুড়ির জিলিপি। থাকে রাইডিং, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, সার্কাস প্রভৃতি। গত বছর এই মেলা ছিল ২০ দিনের।
এ বছর রাসমেলার প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে তুফানগঞ্জের পৌরপতির উপস্থিতিতে মেলা কমিটির সভাপতি তথা জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা ১৫ দিন মেলা চলবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু পৌরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে মেলা ২০ দিনের করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মেলা পাঁচদিন বাড়ানো নিয়ে পৌরসভা এবং রাসমেলা কমিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি তথা জেলাশাসকের মধ্যে চলেছে ঠান্ডা লড়াই। কিন্তু মেলার সময়সীমা বাড়ানো হয়নি। তাই ৩০ নভেম্বরই ছিল মেলার শেষ দিন।
অন্যান্য বছর মেলার উদ্বোধনের পরও দু’-তিনদিন চলে যায় সব দোকানদারদের গুছিয়ে বসতে। কিন্তু এ বছর মেলা শুরুর কয়েকদিন আগেই তাঁরা তৈরি হয়ে যান। মেলায় ছোট-বড় প্রায় ৩০০০ দোকান বসেছিল। কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরকে কেন্দ্র করেই পূর্ব ভারতের বৃহত্তম এই রাসমেলা হয়। মদনমোহন বাড়ির চারদিকে ছোট ছোট ঘর পুতুল দিয়ে সাজিয়ে পৌরাণিক কাহিনিকে তুলে ধরা হয়েছিল। ছিল কৃষ্ণের রাসলীলা, পুতনা রাক্ষসী বধ, ভীষ্মের শরশয্যা, বাল্মিকী ও গণেশ, বিভিন্ন অবতারের ছবি।
রাসমেলার সময় মদনমোহন বাড়ির সামনের মঞ্চে পদাবলি কীর্তন, পালাকীর্তন, যাত্রাপালা, লোকসংগীত, নৃত্য পরিবেশন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মেলাকে অন্যরকম মাত্রা এনে দিয়েছিল। এই সাংস্কৃতিক মঞ্চ হল কোচবিহারের নতুন নতুন প্রতিভার আত্মপ্রকাশ করার যথার্য মঞ্চ। রাসমেলা উপলক্ষে কোচবিহার শহরের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের আঁকা ছবি, মূর্তি ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজের একটি প্রদর্শনী রাখা হয় মদনমোহন বাড়ির ভিতরের একটি গ্যালারিতে। মেলার শেষ দিনে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

❤️❤️