সুদীপনারায়ণ ঘোষ

যতই বলি, রেয়ার আর্থ মেটাল বা বিরল ধাতুর বিষয়ে সাধারণ মানুষ ভাবে না, কিন্তু ভাবব না বললে আর চলবে না। সে বস্তু ব্যবহার করব, আর জানব না, তা কী করে হবে? ভারতকে কতটা সমস্যায় ফেলে এই বিরল ধাতু, তা সবাইকে জানতে হবে। বিরল ধাতু হল সেসব ধাতু, যেগুলি পৃথিবীতে কম পরিমাণে রয়েছে, অথচ আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র বা যন্ত্রাংশে অপরিহার্য।
স্ক্যান্ডিয়াম একটি বিরল ধাতু। এটা মূলত বিমান নির্মাণ, ব্যাটারি, হাই-পারফরম্যান্স স্পোর্টস গিয়ারে ব্যবহার হয়। আর স্ট্রনশিয়াম মূলত দরকার হয় চুম্বক তৈরি, ওষুধ তৈরি, ভ্যাকুয়াম সিস্টেম এবং পুরোনো ক্যাথোড-রে টিউব তৈরিতে। গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক যন্ত্রনির্মাণে এসব বিরল ধাতু অপরিহার্য।
চিনের কাছে রয়েছে পৃথিবীর ৬০ শতাংশ বিরল ধাতু। আর তারা ছড়ি ঘোরায় সেসব বিরল ধাতু নিয়ে। কিন্তু এত দিনে এবার কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ভারতের কয়লা খনিতেই লুকিয়ে রয়েছে বিরল ধাতু। পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত প্রমাণ মিলেছে, কয়লার খনির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন বিরল ধাতু স্ক্যান্ডিয়াম ও স্ট্রনশিয়াম। ফলে ভারতের বিশ্ব খনিজ বাজার আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। এ আবিষ্কার ভারতের খনিজ শিল্পে শুধু নয়, এটি ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশনের অন্তর্গত বিরাট পরিকল্পনার অংশ। লক্ষ্য একটাই— বিদেশের ওপর নির্ভর না করে দেশীয় খনিজ সম্পদ থেকে রেয়ার আর্থ মেটাল বা বিরল ধাতু উৎপাদন করা।
এসসিসিএল-এর চেয়ারম্যান এন বালরাম এ বিষয়ে জানিয়েছেন, সতুপল্লি ও রামাগুণ্ডম খনি থেকে ১৫ টন কাদায় ১ কেজি স্ক্যান্ডিয়াম ও স্ট্রনশিয়াম পাওয়া গিয়েছে। আর আগস্ট থেকেই এই উপাদানগুলির বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হবে বলে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট দাবি করেছে। এই উপাদানগুলি বিদেশ, বিশেষ করে চিন থেকে আমদানি করতে হত। গোটা বিশ্বের ৬০% রেয়ার আর্থ মেটালের চাহিদা পূরণ করত চিন। তবে সম্প্রতি বেজিং এই রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ভারতের অবস্থা টালমাটাল। আর সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারতের নতুন আবিষ্কার আশা জাগাচ্ছে।
চিনে বর্তমানে ৪৪ মিলিয়ন টন রেয়ার আর্থ মেটাল জমা রয়েছে, আর ব্রাজিলে রয়েছে প্রায় ২১ মিলিয়ন টন। বেশ কয়েকটি রিপোর্ট দাবি করেছে, ভারত এবার এই তালিকার তৃতীয় স্থানে চলে এসেছে। ভারতেও প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন টন রেয়ার আর্থ মেটালের সম্ভাবনা রয়েছে। এক রিপোর্ট জানিয়েছে, বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ বালুময় খনিজ জমা রয়েছে ভারতেই। আর এগুলি রেয়ার আর্থ মেটাল বা বিরল ধাতু আহরণে ব্যবহার করা যেতে পারে। এখন বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার।
