সুদীপনারায়ণ ঘোষ

বিরল ধাতুর বিশেষ ধর্ম বা প্রপার্টির কারণে এগুলির কদর খুব বেশি। আবার সারা পৃথিবীতে বিরল ধাতুর পরিমাণ এত কম (সে কারণেই এদের বিরল ধাতু নামকরণ) যে, এগুলি নিয়ে শিল্পপতি, বৈজ্ঞানিক, সকলের মাথাব্যথা বেশি। তাই ভারতের সব সংশ্লিষ্ট মহল উদগ্রীব, উৎকণ্ঠিত ও উৎসুক ছিল এ ধাতু ভারতে পাওয়া যায় কিনা জানতে। খুশির খবর, গত ১১ জুলাই সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (জিএসআই) পুরুলিয়া জেলায় উন্নত অনুসন্ধান চালিয়ে জেনেছে যে, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের বিরল ধাতু খনির মানচিত্রে জায়গা করে নিতে চলেছে। যদিও পুরুলিয়ায় বিরল ধাতুর ভাণ্ডার তুলনামূলকভাবে কম, তবে এ আবিষ্কার তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ভারত বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি (সৌরবিদ্যুৎ, উইন্ড মিল) প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থগুলি আমদানি করার ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। কারণ চিনের দাদাগিরি। দু’টি ব্লকে জি২ স্তরের অনুসন্ধান চলছে। একটি আসামের কার্বি আংলং জেলায় এবং অন্যটি পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায়।
অ্যাসোচ্যাম আয়োজিত খনিজ ও খনির তৃতীয় সংস্করণের সম্মেলনের ফাঁকে জিএসআই মহাপরিচালক অসিত সাহা বলেছেন, এই ব্লকগুলির জন্য এক বছরের মধ্যে নিলাম ডাকা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জি২ পর্যায় মানে উন্নত স্তরের অনুসন্ধান। সম্ভাব্য খনিজ সম্পদ কতটা আছে, তা অনুমান করতে এ স্তরের অনুসন্ধান নির্ভরযোগ্য। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য খনি বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রণালয়ে গবেষণার ফলাফল জমা দেওয়া হবে।
যদিও জিএসআই এখনও এ স্থানগুলিতে নির্দিষ্ট বিরল ধাতুর উপাদান চিহ্নিত করতে পারেনি। অসিত সাহা বলেন যে, মজুতগুলিতে সাধারণত ১৪-১৭টি বিরল ধাতুর খনিজ পদার্থ মিশে থাকে। এগুলি তোলা ও প্রক্রিয়াকরণে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ থাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারত নিম্ন হিমালয় অঞ্চলে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ভ্যানাডিয়ামের মজুত সম্ভার আবিষ্কার করেছে। বলেন, ‘হিমালয় অঞ্চলে আমাদের খুব ভালো ভ্যানাডিয়াম সম্পদ রয়েছে, যা শক্তি সঞ্চয় এবং সংকর ধাতু উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।’ তাঁর মতে, দেশে যত প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রকল্প চলছে, তার প্রায় ৫০ শতাংশ বিরল ধাতুর আকর আবিষ্কারের কাজে নিযুক্ত। এতে বোঝা যায় এসব ধাতুর ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব কতটা।
তবে খনিগুলি পরিচালনায় জমি অধিগ্রহণ সমস্যা, পরিবেশ দফতরের ছাড়পত্র এবং বেসরকারি মালিকদের আগ্রহের অভাব বড় প্রতিবন্ধক। কেন্দ্রীয় ভারী শিল্পমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী ঘোষণা করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার শীঘ্রই অভ্যন্তরীণভাবে বিরল ধাতুর চুম্বক উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১,৩৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প চালু করবে। চুম্বকগুলি বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বা ইভি, উইন্ড টারবাইন এবং প্রতিরক্ষা অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক মোটরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভারতও সক্রিয়ভাবে লিথিয়াম অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। চার থেকে পাঁচটি রাজ্যে ২০টি প্রকল্প চলছে।
