অধ্যাপক ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ

আজকের দিনে পশ্চিমবঙ্গে একই মঞ্চে শাসক এবং বিরোধীদলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি তেমন নজরে পড়ে না। রানাঘাট কলেজ এমনই বিরলতম ঘটনা ঘটিয়ে দেখিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এটা হওয়াই বাঞ্ছনীয়। ধন্যবাদ কলেজ কর্তৃপক্ষকে।
গত ২৭ মার্চ রানাঘাট কলেজের প্ল্যাটিনাম জুবিলি অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী। তিনি রানাঘাটের ভূমিপুত্র। দুপুর ১২টায় কলেজের বিদ্যাসাগর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্বোধনে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রানাঘাট কলেজের পরিচালন সমিতির দীর্ঘদিনের সভাপতি পার্থসারথি চ্যাটার্জি, প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. গৌরাঙ্গমোহন সরকার ও ড. দেবেন্দ্রনাথ সরকার, বর্তমান অধ্যক্ষ ড. অরূপকুমার মাইতি, কলেজের পরিচালন কমিটির বর্তমান সভাপতি ড. জ্যোতিপ্রকাশ ঘোষ এবং জেলা পরিষদের পরিষদীয় দলনেতা দীপক বসু।

এই কলেজের শুরু হয়েছিল ১৯৫০ সালে রানাঘাটের প্রাচীন পালচৌধুরী স্কুলে। আজ এটি নদিয়া জেলার অন্যতম বড় কলেজ। ড. জ্যোতিপ্রকাশ ঘোষ জানান, বর্তমানে এই কলেজের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৬,৫০০।
অপরাহ্ন ৩টে থেকে কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, অধ্যাপক, অধ্যাপিকা এবং শিক্ষাকর্মীরা তাঁদের চাকরি জীবনের নানা ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। প্রত্যেককে কলেজের পক্ষ থেকে উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক এবং একটি স্মারক উপহার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টেয় কলেজের নিজস্ব মাঠে সাংস্কৃতিক মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী মেখলা দাশগুপ্ত। তাঁর অনবদ্য গান পরিবেশন কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মাতিয়ে রাখে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে বিদ্যাসাগর অডিটোরিয়ামে বেলা সাড়ে ১২টায় ছিল মহিলা নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধ বিষয়ক একটি আলোচনাচক্র। এ বিষয়ে ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশে সচেতনামূলক বক্তব্য রাখেন পুলিশ আধিকারিকরা। বিকেলে সাংস্কৃতিক মঞ্চে পরিবেশন করা হয় একটি নৃত্য আলেখ্য ‘৯ নাচো’। উপস্থাপনায় ছিলেন চন্দ্রিমা দে। সব শেষে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী পৌষালি ব্যানার্জির মঞ্চ মাতানো গানের মাধ্যমে জমজমাট হয়ে ওঠে অনু্ষ্ঠান।
প্ল্যাটিনাম জুবিলির উদ্বোধনী পর্যায়ের তৃতীয় তথা শেষ দিনে বিদ্যাসাগর সভাকক্ষে অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা সাড়ে ১২টায়। দিনটি ছিল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের জন্য। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।

ড. জ্যোতিপ্রকাশ ঘোষ জানান, প্রায় ৩০০ প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মঞ্চে তাঁদের পরিচয় দিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকের হাতে প্ল্যাটিনাম জুবিলির একটি করে স্মারক উপহার, পুষ্পস্তবক এবং মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে সম্মানিত করে। তারপর ছিল ‘নব্য শিক্ষানীতি’ নিয়ে একটি আলোচনাচক্র। বিকেলে প্রথমে ছিল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তারপর ছিল ‘চন্দ্রবিন্দু’ ব্যান্ডের অনুষ্ঠান। চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের মনমাতানো গানে মুগ্ধ দর্শকমণ্ডলী গানের তালে তালে নাচতে থাকে। তারপর শেষ হয় রানাঘাট কলেজের গৌরবময় ৭৫ বর্ষপূর্তির তিন দিনের অনুষ্ঠান।
ড. অরূপকুমার মাইতি জানান, কলেজের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উপলক্ষে একবছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হবে। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের দিন উপস্থিত সব সাংবাদিককে রানাঘাট কলেজের পক্ষ থেকে প্ল্যাটিনাম জুবিলির একটি করে স্মারক, পুষ্পস্তবক, উত্তরীয় এবং মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
