অধ্যাপক ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতার একটি রাজনৈতিক পরিচয় আছে। কিন্তু তার বাইরেও এই জায়গার এক ঐতিহাসিক এবং ভৌগোলিক পরিচয়ও আছে। বর্তমানে গড়বেতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থল। কিন্তু তার বাইরেও ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন স্থানীয় হাইস্কুলের মাঠে গত ৪৫ বছর ধরে একটি মিনি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। গড়বেতার জনসাধারণ এই দৌড় প্রতিযোগিতা নিয়ে মেতে ওঠেন। এখানকার মানুষ এই দৌড় প্রতিযোগিতাকে গড়বেতার একটি বড় উৎসব হিসাবে দেখেন। তা সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখলেই বেশ বোঝা যায়।
গড়বেতার যুবগোষ্ঠী পুরুষদের ৮ মাইল এবং মহিলাদের ৫ মাইল দৌড় প্রতিযোগিতা পরিচালনা করে। এ বছর পুরুষ এবং মহিলা মিলে ২৩৪ জন প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। তারপর ফানুস এবং বেলুন ওড়ানো হয়। দৌড় শুরুর আগে স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পীদের দ্বারা লোকনৃত্য এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দৌড় প্রতিযোগিতা শুরুর আগে প্রতিযোগীদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। তারপর পুরুষদের ৮ মাইল এবং মহিলাদের ৫ মাইল মিনি ম্যারাথনের সূচনা হয়।
এ বছর এই অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরশিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. সুদীপ দাস এবং অধ্যাপক ড. অশোক বিশ্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গড়বেতা ১ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক তথা এই প্রতিযোগিতার সভাপতি রামজীবন হাঁসদা।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ডের প্রতিযোগীরা। এই প্রতিযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল স্থানীয় খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা। এর জন্য স্থানীয় পাঁচজন প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
এই দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মিরাটের দৌড়বিদ আরিফ আলি। তিনি সময় নিয়েছেন ৪০.২ মিনিট। দ্বিতীয় স্থান দখল করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার শুভাশিস ঘোষ। তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন উত্তরপ্রদেশের প্রমোদ কুমার। চতুর্থ স্থানও পেয়েছেন উত্তরপ্রদেশের বেনারসের নিতীশ কুমার। পঞ্চম স্থান দখল করেন ঝাড়খণ্ডের অর্জুন টুডু।
প্রতিযোগিতায় মহিলাদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন বেনারসের জুবেদা খাতুন। দ্বিতীয় রাঁচির পূজা সিংহ এবং তৃতীয় হয়েছেন বেনারসের কুমারী রশ্মি।
স্থানীয় প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন আমলাগোড়ার লক্ষ্মী কোলে। আমলাগোড়ারই সুশান্ত রায় দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। তৃতীয় সুমিত হেমব্রম, চতুর্থ সন্তোষ সেরেন এবং পঞ্চম স্থান লাভ করেন মদন সোরেন।
প্রতিযোগিতা শেষে অতিথিদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. সুদীপ দাস, বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. অশোক বিশ্বাস এবং অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা অ্যাডভোকেট শ্যামল মহাপাত্র যৌথভাবে পুরুষদের প্রথম পুরস্কার (নগদ ১০,০০০ টাকা) তুলে দিয়েছেন আরিফ আলির হাতে। সঙ্গে ছিল একটি ট্র্যাক স্যুট। একে একে প্রতিযোগিতার অন্য বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন মঞ্চে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
যুবগোষ্ঠীর সম্পাদক সুব্রত মহাপাত্র বলেন, ‘এ বছর পুরুষদের প্রথম হওয়া আরিফ আলি গত ৪৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে নজির সৃষ্টি করেছেন। এ বছরই প্রথম মহিলাদের ৫ মাইল দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।’
