সুদীপনারায়ণ ঘোষ

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগের আগে ভারতের কুকুরের কদর ছিল এই দেশে। ব্রিটিশরা শুধু এখানকার মানুষকে নয়, কুকুরেরও অবমূল্যায়ন করেছে। ভারতের কুকুরের গতি, শক্তি ও প্রভুভক্তি ও আনুগত্য যথেষ্ট ছিল, তাই বাইরের দেশ থেকে তাদের নিয়ে যেত।
প্রাচীন গ্রিক, রোমান ও চিনের নথিপত্র ইঙ্গিত করে যে, ভারতের কুকুরকে তারা খুব উপযোগী ও শ্রেষ্ঠ মনে করত। কিন্তু ব্রিটিশ শাসন এ ধারণা সম্পূর্ণ উলটে দিয়েছিল। তারা কুকুরের জন্য বিশেষ থাকার জায়গা (ক্যানেল) বানানোর সংস্কৃতি চালু করেছিল। তারা নিজের দেশের, এমনকী ইউরোপীয় যে কোনও কুকুরকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রচার করতে লাগল। ভারতের কুকুরকে নিকৃষ্ট, রাস্তার বা পারিয়া কুকুর বলে প্রচার হতে লাগল।
এখন ফের এর উলোটা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিএসএফ রামপুর ও মুধল হাউন্ডস জাতীয় ১৫০টি দেশি কুকুর থর মরুভূমি ও তাওয়াং অঞ্চল থেকে এনে নিয়োগ করছে। ভারতের কুকুর ভারতীয় পরিবেশে ও জলবায়ুতে অনেক ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে। এটাই হল আত্মনির্ভরতা। আমাদের দশ হাজার বছরের সভ্যতার অনেক কিছু দেওয়ার আছে। আমরা নিজের দেশের কুকুরকে অবহেলা করেছি।

