শক্তিকুমার চট্টোপাধ্যায়

ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে পালিত হল ঘণ্টাকর্ণ পুজো বা ঘেঁটুপুজো। ১৪ মার্চ দোল পূর্ণিমার দিন ফাল্গুন সংক্রান্তিতে এ উৎসব পালিত হল। এখানকার মানুষ লৌকিক উৎসব ঘণ্টাকর্ণ পুজোকে ‘আলুর মালুর’ বলেন।
ফাল্গুন সংক্রান্তির ভোরে গাঁয়ের মহিলারা ঘরের দুয়ারে গোবরের গোলা তৈরি করে তাতে কড়ি বসিয়ে হলুদ কাপড় পরিচ্ছদে ঢেকে ঘণ্টাকর্ণ মূর্তি তৈরি করেন। তারপর মূর্তিতে সিঁদুর পরিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে শঙ্খ বাজিয়ে পুজো করেন। প্রদীপের আলোর শিখায় কাজল তৈরি করে সন্তানসন্ততিদের চোখে পরিয়ে দেন। ছেলেমেয়েরা লম্বা লাঠি দিয়ে মাটির হাঁড়ি-খোলা ভাঙে।
ঘণ্টাকর্ণ চর্মরোগের দেবতা। ঘণ্টাকর্ণ চোখের দৃষ্টি উজ্জ্বল করেন, এমন বিশ্বাস রয়েছে মানুষের। ঘেঁটুপুজোর ফুল ঘেঁটুফুল। বাংলাজুড়ে ঘেঁটুফুলকে ভাটফুল বলা হয়ে থাকে। এই পুজোর কোনও মন্ত্র নেই। বিকেলে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে থালা বা বাঁশের ডালিতে হলুদ কাপড়ে ঢেকে ঘেঁটুমূর্তি নিয়ে চাল-ছোলার ডাল মাগন করে। মুখে ছড়া কাটে, ‘আলুর মালুর চাল গুচ্ছেন দাও গো।/ না হলে খোসগুচ্ছেন লাও গো।’ এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার বাসিন্দা বিশিষ্ট সংস্কৃতিমনস্কা, নাট্যব্যক্তিত্ব, সুলেখিকা, ভাগবত পাঠিকা ঝুম্পা ব্যানার্জিও নিজের বাড়িতে ঘেঁটুপুজো করেন।

যে ঘরে চাল বা অন্য কিছু দেয় না, সে ঘরের দরজায় ঘেঁটুমূর্তির গোবর লেপে দেয়। সন্ধ্যায় আদায় বা মাগনের চাল-ছোলা গরম খোলায় ভেজে ছেলেমেয়েরা এবং পরিবারের লোকজন খান। তবে বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই লোকসংস্কৃতির পুজো অনেকটাই ক্ষয়িষ্ণু।
