কাজল মুখোপাধ্যায়

১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পেরিয়ে গেল। দিনটি শুধু খাদ্যের গুরুত্ব নয়, আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। একদিকে শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাড়িতে প্রতিদিন প্রচুর খাবার ডাস্টবিনে ফেলা হয়। উৎসব, বিয়ে বা পার্টিতে দেখানোর প্রতিযোগিতায় খাবারের অপচয় আজ এক সামাজিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে সারা পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন অনাহারে বা অর্ধভুক্ত অবস্থায় দিন কাটায়।
রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের প্রায় ৮০ কোটি মানুষ নিয়মিতভাবে খিদেয় ভোগে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও নারী। একই পৃথিবীতে কেউ প্লেটভর্তি খাবার ফেলে দেয়, কেউ আবার ডাস্টবিনের পাশে দাঁড়িয়ে খাবারের টুকরো কুড়িয়ে খায়। এ বৈষম্য সভ্যতার লজ্জা।
খাদ্য উৎপাদন সহজ কাজ নয়। কৃষকের ঘাম, সময় ও শ্রমের বিনিময়ে প্রতিটি খাদ্যশস্য ফলানো হয়। তাই খাবার নষ্ট করা শুধু অপচয় নয়, এটি নৈতিক অপরাধ।
প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব, যতটা প্রয়োজন, ততটাই খাবার নেওয়া এবং অবশিষ্ট খাবার সংরক্ষণ করে অভুক্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও প্রতিষ্ঠানগুলিরও উচিত ‘জিরো ফুড ওয়েস্ট’ নীতি গ্রহণ করা।
অঙ্গীকার হোক, কোনও খাবারই যেন নষ্ট না হয়, কারণ খাদ্য আমাদের জীবনরক্ষার জন্য অপরিহার্য উপাদান।
