অধ্যাপক ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ

ক্রিকেটে কম রানের টার্গেট বিপক্ষ দলের কাছে অনেক সময় বিপজ্জনক। ক্রিকেটে ভারত-ইংল্যান্ড তৃতীয় টেস্টে তা আরও একবার প্রমাণ হল। ছোট টার্গেট মানেই ব্যাটিং দলের মনে একটা হালকা ভাব কাজ করে। আর খেলাটাকে হালকাভাবে নিতে গিয়ে অল্প রানের টার্গেটে পৌঁছতে না পারার উদাহরণ অনেক রয়েছে।
শুরু হয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ টেস্ট ম্যাচের প্রথম সিরিজ। ইতিমধ্যে তিনটি ম্যাচ শেষ হয়েছে। প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড ভারতকে পাঁচ উইকেটে পরাজিত করে (২০ থেকে ২৪ জুন, ২০২৫)। দ্বিতীয় টেস্টে (২ জুলাই থেকে ৭ জুলাই, ২০২৫, বার্মিংহামের এজবাস্টন) ভারত ইংল্যান্ডকে ৩৩৬ রানে পরাজিত করে। প্রথম দু’টি টেস্ট ১-১ অবস্থায় তৃতীয় টেস্ট শুরু হয় লন্ডনের ঐতিহাসিক মাঠ লর্ডসে (১০ থেকে ১৪ জুলাই, ২০২৫)।
প্রথম দু’টি টেস্ট ম্যাচের মতো তৃতীয়টিও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। টসে জিতে ইংল্যান্ড প্রথম ব্যাট করে সব উইকেট হারিয়ে ৩৮৭ রান করে। ভারতীয় পেস বোলার জসপ্রীত বুমরা অসাধারণ বোলিংয়ের নিদর্শন রেখে ৫ উইকেট দখল করেন। ইংল্যান্ডের জো রুট ১০৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন। অন্যদিকে ভারত প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও সব উইকেট হারিয়ে ৩৮৭ রান করে। সবাই যখন ধরে নিচ্ছে, তৃতীয় টেস্ট ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে, তখনই ভারতীয় বোলার ওয়াশিংটন সুন্দর ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে চারটি উইকেট নিয়ে চতুর্থ দিনে মাত্র ১৯২ রানে তাদের আটকে রাখেন। বাকি পঞ্চম দিনের খেলা। ভারতের টার্গেট ১৯৩ রান। স্বাভাবিক ভাবেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে সমর্থকরা জয়ের আশা নিয়ে রাতে ঘুমোতে যান।
টার্গেট ১৯৩ রান। হাতে ১০ উইকেট। রয়েছেন প্রথম টেস্টে শতরান করা যশবন্ত জয়সওয়াল (১০১), অধিনায়ক শুভমন গিল (১৪৭) এবং রিষব পন্থ (১৩৪)। দ্বিতীয় টেস্টে জয়ের কারিগর ২৬৯ রান করা অধিনায়ক শুভমন গিল। অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন জাদেজা (৮৯)। এ অবস্থায় ভারতীয় ব্যাটাররা ১৯৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নামেন। দলের ৫ রানের মাথায় প্রারম্ভিক ব্যাটার যশবন্ত জয়সওয়াল ০ রানে ফিরে যান। ৪১ রানের মাথায় ভারত দ্বিতীয় উইকেট হারায়। তারপর কে এল রাহুল ৩৯ রান, কে নায়ার ১৪ রান, অধিনায়ক শুভমন গিল প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৬ রান করে আউট হয়ে যান। একমাত্র জাদেজা ছাড়া বাকি আকাশদীপ ১ রান, রিষব পন্থ ৯ রান, ওয়াশিংটন সুন্দর ০, রেড্ডি ১৩, বুমরা ৫ রান এবং শেষ ব্যাটার সিরাজ ৪ রান করে আউট হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। একা কুম্ভ হয়ে লড়ে গিয়েছেন জাদেজা। তিনি ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতের ইনিংস জয় থেকে মাত্র ২২ রান দূরে শেষ হয়ে যায়।
এখন ২-১-এ সিরিজ ইংল্যান্ডের অনুকূলে। বাকি রয়েছে দু’টি টেস্ট ম্যাচ। যদি দ্বিতীয় ইনিংসের অতিরিক্ত রানের দিকে তাকানো হয়, তাহেল দেখা যাবে, ভারতীয় উইকেট কিপারের হাত গলে ২২টি মূল্যবান রান ‘বাই’ হয়েছে। আর ভারত ২২ রানেই হেরেছে। না, এটা শুধু হারের কারণ হতে পারে না। বর্তমান ভারতীয় দলে নেই রাহুল বা বিরাটের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। কিন্তু যাঁরা ছিলেন, তাঁদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। আমার মনে হয়, এই ভারতীয় দলের ১৯৩ রান তোলার যথেষ্ট যোগ্যতা ছিল এবং আছেও, তা আগের দু’টি টেস্টের ফলাফল প্রমাণ করে। কিন্তু ওই যে, ছোট টার্গেটে বিপদ বেশি। ভারতীয় ব্যাটাররা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখাতে গিয়ে তাঁদের বিপদ ডেকে এনেছেন।
যাই হোক, এখনও সিরিজে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। আশা করি, ভারতীয় ক্রিকেট দলের থিংক ট্যাংক এই টেস্ট ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দু’টি টেস্টের পরিকল্পনা করবেন। আমরা আশাবাদী, ভারত এই টেস্ট সিরিজ জিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পয়নশিপের প্রথম ধাপ পেরোতে পারবে। এখন শুধু সিরিজ জেতা নয়, আগামী দু’বছরের টেস্ট পারফরম্যান্সই পারে ভারতকে তৃতীয়বার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছে দিতে।

😉Khelata mathe hoy dada. Jara khelchhe ba khelbe tara sobai jane ki bhabe khelte hoy. Meyeder crickete ager khelay Harleen Deol-o janto. Bhul manus matrer-i hoy. Amra sokolei jibon-khelay prochur bhul kore thaki.