মহাশোরগোল প্রতিবেদন: পৃথিবীতে এমন কিছু ক্রীড়াবিদ জন্মেছেন, যাঁরা তাঁদের মৃত্যুর পরও মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থায়ী হয়ে থেকে গিয়েছেন। যেমন, ব্রাজিলের পেলে, আর্জেন্টিনার মারাদোনা, অস্ট্রেলিয়ার ডন ব্র্যাডম্যান, আমেরিকার সাঁতারু মাইকেল ফেলপস প্রমুখ। আমাদের দেশেও বহু ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আছেন, যাঁরা ইতিহাসে স্থান পেয়েছেন। তার মধ্যে যাঁকে সারা বিশ্ব একডাকে চেনে, তিনি মেজর ধ্যানচাঁদ। তিনি বল এতটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন যে, গ্যালারিতে বসে দর্শকদের মনে হত ধ্যানচাঁদের হকি স্টিকে আঠা লাগানো আছে। তাই সারা বিশ্ব তাঁকে হকির জাদুকর মেনে নিয়েছেন।
অলিম্পিকস হল বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান। আধুনিক অলিম্পিকস ১৮৯৬ সালে শুরু হলেও হকি প্রথম অলিম্পিকসে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯০৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকসে। ভারত প্রথম অলিম্পিক হকিতে অংশগ্রহণ করে ১৯২৮ সালে আমস্টারডমে। সেবার অংশগ্রহণ করেই স্বর্ণপদক পায় ভারত। ১৯২৮ সাল থেকে টানা ৬টি অলিম্পিকসে স্বর্ণপদক জিতেছিল ভারত। এর মধ্যে ১৯২৮ সালের আমস্টারডাম, ১৯৩২ সালের লস অ্যাঞ্জেলস এবং ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকসে জয়ের কারিগর ছিলেন মেজর ধ্যানচাঁদ। বার্লিন অলিম্পিকসে ভারতীয় অলিম্পিক দলকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন নামে ধ্যানচাঁদ।
বিশ্ব হকির এমন কিংবদন্তি মেজর ধ্যানচাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারত সরকার তাঁর জন্মদিনটিকে ২০০৩ সালের ২৯ আগস্ট থেকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দিনটিকে পালনের অন্যতম উদ্দ্যেশ্য হল সাধারণ মানুষকে খেলাধুলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা।
কিন্তু এভাবে বছরের একটি দিনকে পালন করে কি খেলাধুলার উন্নতি করা সম্ভব! দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এই দিনটির তাৎপর্য হল খেলাধুলার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে শরীরচর্চার গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা।
অন্য পোস্ট: কর্মসংস্থানের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিরাট প্রভাব পড়তে চলেছে
প্রতি চার বছর অন্তর অলিম্পিকস আসে যায়, কিন্তু ভারতের অলিম্পিকস ক্রমতালিকা সেই তিমিরেই পড়ে রয়েছে। ভারত ১৪০ কোটি মানুষের দেশ। এখানে ক্রীড়া প্রতিভা নেই, একথা মানা যায় না। প্রয়োজন দায়িত্বশীল বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্দ্বন্দ্ব ভুলে, পদের মোহ ছেড়ে খেলায় মনোযোগ দেওয়া। যেখানে লক্ষ লক্ষ প্রতিভা আছে, সেই স্কুলগুলিতে খেলাধুলার পরিকাঠামো নেই, খেলাধুলার চর্চাও নেই। তাই ভারত সরকার ১৪০ কোটি মানবসম্পদের দেশে স্বর্ণপদকহীন ৬টি পদক পেলেই ঘটা করে তাঁদের সঙ্গে ছবি তোলে। এটা রাজনৈতিক প্রচার ছাড়া আর কিছু নয়। যদিও এ বছর প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ক্রীড়া দিবসে খেলোয়াড়দের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
এই উপলক্ষে রানাঘাট ফ্রেন্ডস ক্লাব বরাবরের মতো এবারও দিনটিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করেছে। ধ্যানচাঁদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকসে অংশগ্রহণকারী (জিমনাস্টিক) এবং সরকারি স্নাতকোত্তর শারীরশিক্ষা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষা ড. চন্দনা চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বর্তমানে মোহনবাগান ক্লাবের জুনিয়র ক্রিকেট দলের কোচ অভিষেক ব্যানার্জি, রানাঘাট পৌরসভার পৌরপ্রধান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ কে সি দিকপতি, পশ্চিমবঙ্গ সফটবল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক হেমলাল মণ্ডল-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি। অতিথিদের ফ্রেন্ডস ক্লাবের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক, উত্তরীয় এবং একটি স্মারক উপহার দিয়ে বরণ করা হয়। গত এক বছরে রানাঘাট ফ্রেন্ডস ক্লাবের খেলোয়াড়দের সাফল্যের ওপর সবাইকে অতিথিদের হাত দিয়ে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
ড. চন্দনা চক্রবর্তী, অভিষেক ব্যানার্জি এবং কে সি দিকপতি উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক-অভিভাবিকাদের সঙ্গে তাঁদের নিজেদের জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। প্রায় দু’শো শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় ক্রীড়ামোদী মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
