মহাশোরগোল প্রতিবেদন: ওরা (বাংলাদেশি মৌলবাদীরা) বলছে, আমাদের চিকেন’স নেক নেবে। আমরা তো পুরো চিকেন অর্থাৎ গোটা বাংলাদেশটাই দখল করতে পারি। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইতিহাস উৎসবের সংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি সদর্পে এ কথা ঘোষণা করলেন ভারতের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা কর্নেল সৌমিত্র রায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে ক্ষমতা রয়েছে, তাতে বাংলাদেশকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।’ ওইদিন সংবর্ধনা মঞ্চে অন্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুনী গোস্বামীর স্ত্রী বাসন্তী গোস্বামী, অভিনেতা অঙ্কিত মজুমদার ও সংগীতশিল্পী অন্তরা চৌধুরী।

৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল এই উৎসব। শেষ হল ১২ ফেব্রুয়ারি। প্রতিবছরের মতো এ বছরও কলকাতার বড়িশায় সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের বড়বাড়িতে আয়োজিত হল এই উৎসব। ঐতিহাসিক অমূল্য সামগ্রী দিয়ে সাজানো ছিল এই উৎসবের প্রদর্শনী। উৎসবের প্রধান উদ্যোক্তা দেবর্ষি রায়চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে চারদিন ধরে চলে এই কর্মকাণ্ড।
এবার ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের গায়িকা গওহর জান, চলচ্চিত্র অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ক্রীড়াবিদ চুনী গোস্বামীর স্মৃতিচিহ্ন দিয়ে সাজানো হয়েছিল প্রদর্শনী। ছিল তাঁদের ব্যবহৃত সামগ্রী, তৈলচিত্র ও বহু পুরোনো ছবি। এছাড়া চারদিনের এই কর্মসূচিতে ছিল কুইজ, গানের অনুষ্ঠান, শ্রুতিনাটক, নৃত্যানুষ্ঠান-সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাবর্ণ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী হাতে লেখা পত্রিকা সপ্তর্ষি-র ৩৫তম সংখ্যার উদ্বোধন হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় প্রণব রায় দিবস। এছাড়াও ছিল বিভিন্ন সম্মাননা জ্ঞাপন এবং দুস্থ পড়ুয়াকে মল্লিকা রায়চৌধুরী মেমোরিয়াল স্কলারশিপ প্রদান।
এ কথা সত্যি, এরকম একটি ইতিহাস উৎসবে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্জয় হয়। দেখতে পাওয়া যায় বহু না দেখা ঐতিহ্য। ঋদ্ধ হওয়া যায় গুণীজনদের স্মৃতিচিহ্নে। আর বিশিষ্ট মানুষদের অভিজ্ঞতা এবং বার্তা তো থাকেই। আসলে ইতিহাস সৃষ্টিকারী সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের আন্তর্জাতিক ইতিহাস উৎসব তো একটি অন্য মাত্রা পাবেই।
