অধ্যাপক ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ

গত ৮ ডিসেম্বর, রবিবার সকাল সাড়ে ৬টায় রানাঘাট লায়ন্স ক্লাব ওয়েস্ট এবং লিও লায়ন্স ক্লাবের পরিচালনায় প্রায় ৪০০ প্রতিযোগী নিয়ে ষষ্ঠ বার্ষিক পাঁচ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয় রানাঘাট মহাবিদ্যালয়ের সামনে থেকে। শিশু ক্যানসার সচেতনতার মতো (Childhood cancer) একটি মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এ বছরের ম্যারাথন দৌড় পরিচালনা করা হয়। এই ম্যারাথন দৌড়ের সূচনা করেন নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুস সুলতানা মীর এবং রানাঘাট পৌরসভার পৌরপ্রধান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। সুচারু আয়োজনের মাধ্যমে কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে নদিয়া জেলার এই ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেন। দূরবর্তী জেলার প্রতিযোগীদের রাতে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে রানাঘাট লায়ন্স ক্লাব ওয়েস্ট।
এই প্রতিযোগিতায় এ বছর ৫ বছরের শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সের বালক-বালিকা, পুরুষ এবং মহিলা প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। পুরুষদের প্রথম পাঁচজন এবং মহিলাদের প্রথম পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া শিশু এবং বয়স্কদেরও মঞ্চে স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুস সুলতানা মীর, রানাঘাটের মহকুমা শাসক ভরত সিং, পৌরপ্রধান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, রানাঘাটের প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ সমীরপ্রসাদ রায়, লায়ন্স ক্লাবের অভিভাবক লায়ন মনোজ আগরওয়াল, লায়ন্স ক্লাব ওয়েস্টের সম্পাদিকা বিজয়া রায় এবং ক্লাবের সভাপতি।
মহিলাদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে মগরাহাটের অতসী গায়েন। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন রানাঘাটের মহকুমা শাসক ভরত সিং। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন হালালপুর, রানাঘাটের পূর্ণিমা মণ্ডল। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন রানাঘাট পৌরসভার পৌরপ্রধান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয় স্থান অধিকার করেন কলকাতার সুপ্রিয়া মুন্ডা। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন লিও লায়ন অভিজিৎ রায়। চতুর্থ স্থান অধিকার করেন রানাঘাটের ইপ্সিতা মণ্ডল। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন লিও মিলন বসু এবং পঞ্চম স্থান অধিকার করেন রানাঘাটের নূসরত মণ্ডল। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন লায়ন মনোজ আগরওয়াল।
পুরুষদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন বারুইপুরের সলমন খান। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুস সুলতানা মীর। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন মালদার রনিকুমার সাহা। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন রানাঘাট পৌরসভার পৌরপ্রধান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয় স্থান অধিকার করেন পূর্ব বর্ধমানের পলাশ হাজরা। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন লায়ন মনোজ আগরওয়াল। চতুর্থ স্থান অধিকার করেন কালনার বনদেবাইয়ের পাপাই বিশ্বাস। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন সমীরপ্রসাদ রায়। পঞ্চম স্থানে দৌড় শেষ করেন আসানসোলের আশিস কুমার। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন লায়ন বিজয়া রায়।
মহিলা এবং পুরুষদের পুরস্কারে লিঙ্গসমতা রক্ষা করা হয়। অর্থাৎ প্রথম স্থানাধিকারী পুরুষ এবং মহিলা প্রতিযোগী উভয়কে নগদ ৫,০০০ টাকা এবং একটি করে সুন্দর ট্রফি দেওয়া হয়। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানাধিকারী পুরুষ এবং মহিলা বিজয়ীকে যথাক্রমে, ৪০০০ টাকা ও একটি ট্রফি, ৩,০০০ টাকা এবং একটি ট্রফি, ২,০০০ টাকা এবং একটি ট্রফি এবং ১,০০০ টাকা এবং একটি ট্রফি দেওয়া হয়।
