শ্রীমন্ত পাঁজা
সম্প্রতি হাওড়ায় জন্মদিনের আনন্দ দরিদ্র শিশুদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর হাওড়ার ধুলাগুড়ির বাসিন্দা তরুণ সাঁতরার মানবিক মুখ দেখা গিয়েছে তাঁর কন্যা তন্বিতার তৃতীয় জন্মদিন উপলক্ষে।
বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ছাড়াও অভিনব পদ্ধতিতে জন্মদিন পালন করা যায়, যেখানে দরিদ্র, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। তরুণের এই মানবিক চিন্তাভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে এগিয়ে এসেছে মূলত ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গড়ে ওঠা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গঙ্গাধরপুর আনন্দধারা সেবা দল। এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ণধার অমিত পাঁজা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তাঁরা এ ধরনের কর্মসূচি হাওড়ার বিভিন্ন প্রান্তে করছেন। অভিনব পদ্ধতিতে এভাবে জন্মদিন পালন করার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন। শুধু জন্মদিন নয়, বিবাহবার্ষিকী, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন উপলক্ষেও ফুটপাতে থাকা অসহায়, অনুন্নত এলাকার ক্ষুধার্ত মানুষ, রেলস্টেশন অথবা বাসস্ট্যান্ডে থাকা ভবঘুরে ও ভিখারিদের মধ্যেও এই দিনগুলিতে নিজের পাশাপাশি অসহায় মানুষদের মধ্যেও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আবেদন রাখেন। এই আবেদনে সাড়া দিয়ে বহু মানুষ এগিয়ে আসেন।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গঙ্গাধরপুর আনন্দধারা সেবা দলের ডাকে সাড়া দিয়ে ধুলাগড়ির তরুণ সাঁতরা হাওড়ার ফাউন্ড্রি পার্ক এলাকায় অসহায়, দুস্থ, গরিব মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে নিজের কন্যাসন্তানের জন্ম দিবসকে বেছে নেন। এই মানবিক চিন্তাভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে তিনি আনন্দধারা সেবা দলের কয়েকজন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিস্কুট, চিঁড়ে, মিষ্টি, কেক প্যাকেট বন্দি করে ১০০ জন অসহায় দরিদ্র শিশু ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন এবং তাঁদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলেন।
পেশায় ওষুধ বিক্রেতা তরুণ সাঁতরা বলেন, ‘দরিদ্র অসহায় মানুষের চোখে মুখে যে আনন্দের প্রতিচ্ছবি দেখেছি, তা আমার তৃতীয় বছরের কন্যা তন্বিতার কাছে ঈশ্বরের আশীর্বাদস্বরূপ।’ এভাবেও মানবসেবা করা যায়, তা দেখিয়ে দিয়েছেন তরুণ। বহু মানুষ তাঁর এই মানবিক চিন্তাভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

