অজয় ভট্টাচার্য

রাত তখন দ্বিতীয় প্রহর। উৎসবমুখর বনগাঁ শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত বারকয়েক চষে ফেলেছেন বাপি মুন্ডা। রাস্তার দু’ধার, অস্থায়ী খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁর আশপাশে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে বস্তায় ভরা তাঁর কাজ। প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি হয় প্লাস্টিকের বোতল। দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করতে পারেন। অর্থাৎ ১০ থেকে ১২ কেজি পরিত্যক্ত বোতল সংগ্রহ করতে তাঁকে ছুটে বেড়াতে হয় এক শহর থেকে আর এক শহরে।
উৎসবের দিনে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল পাওয়া সহজ হয়। তাই বাপি আছেন বনগাঁর দুর্গোৎসবে। তিনি থাকেন ঠাকুরনগর মতুয়া মেলায়। মেলা, খেলা, বনভোজন— তিনি সর্বত্র থাকেন, কিন্তু কোথাও নেই। দুর্গোৎসব, মেলা, খেলা, বনভোজনের আনন্দের শরিক তিনি নন। জীবিকার প্রয়োজনে থাকেন উচ্ছিষ্টের আস্তাকুঁড়ে।
পরিবেশবন্ধু বাপি মুন্ডার বাড়ি গাংনাপুর। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। উৎসবের আঁচ তাঁকে স্পর্শ করে কি না, সেকথা জিজ্ঞেস করায় তিনি মুখ ফিরিয়ে হনহন করে হাঁটতে শুরু করলেন। রাস্তার দু’পাশে খুঁজতে লাগলেন ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল।
