মহাশোরগোল প্রতিবেদন: সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম সরকারি শারীরশিক্ষা কলেজের ৫৭তম পুনর্মিলন উৎসব হয়ে গেল। বাণীপুর শারীরশিক্ষা কলেজের মাল্টিপারপাস হলে এই উৎসবের সূচনা হয়। ১৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় ক্ষিতীন্দ্রনাথ ক্রীড়াঙ্গনে কলেজের পতাকা উত্তোলন করেন কলেজের অধ্যক্ষ। প্রাক্তনী পুনর্মিলন উৎসবে জেমস বুকাননের স্মৃতিতে তৈরি মূল মঞ্চে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অসীমকুমার বসু, প্রাক্তন অধ্যক্ষ তপনমোহন চক্রবর্তী এবং উপস্থিত অতিথিরা। স্বাগত ভাষণ দেন প্রাক্তনী পুনর্মিলন উৎসব কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক ড. মিলনকুমার সাহা।
এ বছর এই উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যাল, বারাসতের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌরেন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের অনুষ্ঠান প্রাক্তনীদের অতীত স্মৃতিচারণার দিন। তাই তিনি কোনও গুরুগম্ভীর ভাষণে না গিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের দু’টি কবিতা আবৃত্তি করবেন। তাঁর সুশ্রাব্য আবৃত্তি শ্রোতারা মোহিত হয়ে শোনেন। তাঁর সাবলীল আবৃত্তি উপস্থিত সকলকে আনন্দ দান করেছে। প্রাক্তন অধ্যক্ষ তপনমোহন চক্রবর্তী তাঁর বক্তৃতায় বাণীপুরের শারীরশিক্ষা কলেজের জন্মবৃত্তান্ত তুলে ধরেন।
প্রতিবছরের মতো এবারেও বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। পুনর্মিলন উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে কলেজের এমপিএড-এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী অনিরুদ্ধ মুখার্জিকে স্বর্গীয়া প্রমীলাসুন্দরী পাল পুরস্কার-২০২৫ প্রদান করা হয়। এমপিএড-এর ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মল্লিকা মাহাতোকে লিলি পাঠক স্মৃতি পুরস্কার-২০২৫ দেওয়া হয়। কলেজের ওয়েবসাইট ২০২৫ মিটে সেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার দেওয়া হয় শ্যামসুন্দর মল্লিককে। সেরা মহিলা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার দেওয়া হয় কাবেরী রায় প্রধানকে। এছাড়া জাতীয় দলের খো-খো খেলোয়াড় দীপিকা চৌধুরীকে পুনর্মিলন উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়।
এই কলেজের অনেক প্রাক্তনী পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শারীরশিক্ষা শিক্ষক হিসাবে কাজ করে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এমন একজন শিক্ষিকা কাজললতা পালকে স্বর্গীয় পুষ্প সাহা স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়। তিনি এই কলেজের ১৯৯৬-’৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদ্যালয় স্তরে সেরা শারীরশিক্ষক হিসাবে পুরস্কৃত করা হয় গৌতম আশ-কে। তিনি স্বর্গীয় পুলিনবিহারী রুদ্র স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন।
প্রথা অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিচয় প্রদান করেন। দুপুরের খাবারের পর বিকেলে বর্তমান এবং প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল।
পুনর্মিলন উৎসবের শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ছিল ‘ব্রতীকরণ’। এই অনুষ্ঠানটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শারীরশিক্ষার শিক্ষার্থীরা যখন বিপিএড বা এমপিএড কোর্স সম্পূর্ণ করেন, তখন মোমবাতি জ্বালিয়ে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়, যেমন চিকিৎসকরা এমবিবিএস পাশ করার পর করে থাকেন। কলেজের বরিষ্ঠ অধ্যাপক ড. সোমেন্দ্রনাথ বাগ বিপিএড এবং এমপিএড চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্রছাত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। পড়ুয়ারা বিপিএড এবং এমপিএড পাশ করে সাধারণত বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশায় যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। তাঁদের ওপর দায়িত্ব থাকে ছাত্রছাত্রীদের আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার। কারণ শারীরশিক্ষা মানুষ গড়ার শিক্ষা। তাই কোর্স শেষে ছাত্রছাত্রীদের ব্রতীকরণের মাধ্যমে মানুষ গড়ার সেবায় আত্মনিয়োগ করার প্রতিজ্ঞা করানো হয়।

খুব সুন্দর প্রতিবেদন