মহাশোরগোল প্রতিবেদন: গত ১৮ অক্টোবর কলকাতা প্রেস ক্লাবে শমীকস্বপন ঘোষের লেখা ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ ‘অপরাজেয় রাসবিহারী’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে সুখবর দৈনিক সংবাদপত্রের নিবেদনে এবং রাসবিহারী রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ভারত, জাপান ও রাসবিহারী বসু শীর্ষক এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শমীকস্বপন ঘোষের লেখা দুই খণ্ডের ‘অপরাজেয় রাসবিহারী’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন জাপানের কনসাল জেনারেল (কলকাতা) নাকাগাওয়া কোইচি এবং তাঁর স্ত্রী নাকাগাওয়া ইয়াইয়োই, সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই কথাসাহিত্যিক অমর মিত্র ও তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি তথা কথাসাহিত্যিক বারিদবরণ ঘোষ, সাংবাদিক তথা সাহিত্যিক শঙ্করলাল ভট্টাচার্য, সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞ অমিতাভ কারকুন ও পারুল প্রকাশনীর কর্ণধার পার্থ সাহা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাসবিহারী বসু, বসন্ত বিশ্বাস ও অন্য বিপ্লবীদের পরিবারের সদস্যরা। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন সৌরদীপ রায়। স্বাগত ভাষণে রাসবিহারী রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, ‘রাসবিহারী বসু এক বিস্ময়। বিপ্লবীদের একজোট করে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। অবশ্য তিনি ভারতের স্বাধীনতা দেখে যেতে পারেননি। ১৪ বছর ধরে লালন করা আইএনএ-কে দেশের স্বাধনীনতার জন্য তুলে দেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে। নেতাজিকে আমরা জানি, কিন্তু তাঁকে যিনি তৈরি করেন, সেই রাসবিহারী বসুকে আমরা ভুলে গিয়েছি। তিনি ভারত-জাপানের মৈত্রীর কথা বলেছিলেন। সেই মৈত্রীর বন্ধন দৃঢ় করতে আমরা বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর অবদানের কথা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই।’
অমিতাভ কারকুন INA Japan: Weapons in arms friendship বিষয়ে আলোচনা করেন। পারুল প্রকাশনীর পক্ষ থেকে পম্পা সাহা অতিথিদের বরণ করেন। কলকাতা প্রেস ক্লাবের সহ-সম্পাদক নিতাই মালাকার ও কোষাধ্যক্ষ অরিজিৎ দত্ত অতিথিদের স্বাগত জানান।
‘অপরাজেয় রাসবিহারী’-র লেখক শমীকস্বপন ঘোষ বলেন, ‘রাসবিহারী রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাহায্য ছাড়া এই বই লেখা সম্ভব হত না। প্রচুর আকর গ্রন্থ ও ফিল্ড ওয়ার্কের ভিত্তিতে লিখেছি। এতে রক্ত-মাংসের রাসবিহারীকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। রাসবিহারীর পাশাপাশি অন্য বিপ্লবীদের কথাও রয়েছে।’
নাকাগাওয়া কোইচি ও নাকাগাওয়া ইয়াইয়োই রাসবিহারী বসুর ওপর বই লেখার জন্য লেখক শমীকস্বপন ঘোষ এবং উদ্যোক্তা রাসবিহারী রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে তাঁরা ভারত-জাপান মৈত্রীর ক্ষেত্রে রাসবিহারী বসুর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
সাহিত্যিক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অপরাজেয় রাসবিহারী আমি দু’বার পড়েছি। প্রথমবার যখন সুখবর পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে বেরোত। আর দ্বিতীয়বার সংশোধিত পাণ্ডুলিপি।’ তিনি এই বইকে জীবনী উপন্যাস বলে মন্তব্য করেন।
অন্য পোস্ট: ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতিতে বাঙালির কাছেই ব্রাত্য বাংলা আজ আভিজাত্যে প্রকাশমুখর
বিশেষ অতিথি বারিদবরণ ঘোষও এই বইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাহিত্যিক-সাংবাদিক শঙ্করলাল ভট্টাচার্য বলেন, ‘ইরেজিতে রাসবিহারীকে নিয়ে অনেক লেখা হলেও বাংলায় এই প্রথম। তাই শমীকের এই বই পড়ার আকর্ষণ আলাদা।’ সাহিত্যিক অমর মিত্র ‘অপরাজেয় রাসবিহারী’-কে মহাভারত হিসাবে উল্লেখ করেন। দর্শকদের ধন্যবাদ জানান রাসবিহারী ফ্যামিলি ট্রাস্টের সম্পাদক দেবাশিস বসু। পারুল প্রকাশনীর কর্ণধার পার্থ সাহার সমাপ্তি ভাষণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য।
মহাত্মা গান্ধীর আগে রাসবিহারী বসুই হলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম সর্বভারতীয় নেতা, যিনি বাংলা থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত সব সশস্ত্র বিপ্লবী দলকে এককাট্টা করে ইন্ডিয়ান লিবারেটিং লিগ গড়ে তোলেন। তাঁর জাপান পর্ব নিয়ে ইংরেজি ও জাপানি ভাষায় অনেক তথ্যবহুল গবেষণামূলক বই লেখা হলেও বাংলা ভাষায় তার কোনও প্রামাণ্য বই এতদিন ছিল না। পারুল প্রকাশনী থেকে এবার ২ খণ্ডের রয়্যাল সাইজের ১,০৯৮ পৃষ্ঠার এই বই প্রকাশিত হল। একেবারে থ্রিলারের মতো টানটান গদ্যে ভরা এই বইয়ে উঠে এসেছে বহু বিপ্লবীর সংগ্রামের জীবন্ত বর্ণনা। ১৮৮৫ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বিপ্লবীরা এই বইয়ে যেন রক্ত-মাংসের মানুষ হয়ে দেখা দিয়েছেন।
