মহাশোরগোল প্রতিবেদন: কলকাতার রামমোহন রায় রোডের গড়পার অঞ্চলে তিনি শেষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর শেষ জীবনের এই সাধনভূমিতেই পার্থিব দেহ ত্যাগ করেছিলেন মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ (ভাদুড়ি মহাশয়)। পশ্চিমে যাওয়ার আগে পরমহংস যোগানন্দ তাঁর আশীর্বাদ নিয়েছিলেন। নিজের আত্মজীবনীতে সে বিবরণ দিয়েছেন পরমহংস যোগানন্দ স্বয়ং। লিখেছেন, ‘Son, go to America. Take the dignity of hoary India for your shield. Victory is written on your brow; the noble distant people will well receive you.’
১৯১৬ সালে দোল পূর্ণিমার দিন রামমোহন রায় রোডের নবনির্মিত বাড়িতে গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান হয়। ১৯২৬ সালের ২ নভেম্বর মহর্ষির দেহাবসানের একদিন পর ভক্ত-শিষ্যরা তাঁর নামে একটি মঠ তৈরির পরিকল্পনা করেন। এই শেষ লীলাভূমিতেই তাঁর অস্থিকলস মাটিতে পুঁতে তার উপর সমাধি মন্দির নির্মিত হয়। ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং পাদুকাও তাঁর ঘরে সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এই সূত্রেই ১৯২৬ সালে গড়ে ওঠে শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠ। এই মঠের কথাও আছে পরমহংস যোগানন্দের ‘Autobiography of a Yogi’-র The Levitating Saint শীর্ষক আলোচনায়। তিনি লিখেছেন, ‘One day he moved to Ram Mohan Roy Road, away from the neighborhood of my Gurpar Road home. His loving disciples had built him a new hermitage, known as Nagendra Math.’ পরে ২০০৫ সালে এখানে গড়ে ওঠে নগেন্দ্র মিশন।
মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের শেষ আবাসস্থল সনাতন ধর্ম প্রচারিণী সভা ও শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠ এবং নগেন্দ্র মিশনে ৫ এপ্রিল মহাসমারোহে পূজিত হলেন দেবী অন্নপূর্ণা। উদযাপিত হল অন্নকূট উৎসব।


এ প্রসঙ্গে মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের পরিবারের পক্ষ থেকে ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘সারা পৃথিবীর মানুষ আসেন ভাদুড়ি মহাশয়ের শেষ জীবনের তপস্যাভূমিতে। ভক্তদের চোখে তিনি বহিরঙ্গে শিব, অন্তরঙ্গে বিষ্ণু। তাঁর সাধনভূমিতে অন্নকূট উৎসব উপলক্ষে হাজির হন বহু ভক্ত। সবাই তৃপ্ত হন দিব্যপ্রসাদ প্রাপ্তিতে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’
