রক্তিম দাশ
বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক
বাজারের মোড়ে প্রতিদিনই তাকে দেখা যায়। এলোমেলো চুল, ছেঁড়া জামা, হাতে একটি বাঁশের লাঠি। সবাই তাকে পাগলা হরু বলেই চেনে। কেউ হাসে, কেউ বিদ্রুপ করে, আবার কেউ দু’-একটা বিস্কুট বা ভাত দিয়ে যায়।
হরুর অদ্ভুত একটা অভ্যাস ছিল। সে হঠাৎ করেই আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠত— চোররা এখন তালা বানায়, আর সৎ মানুষ চাবি খুঁজে বেড়ায়! বিচারকের চোখ বাঁধা নয়, বিবেকটাই বাঁধা!
লোকজন হেসে বলত, দেখো, দেখো, আবার শুরু হল পাগলের প্রলাপ।
একদিন বাজারে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দুর্নীতির খবর ছড়িয়ে পড়ল। যিনি সারাজীবন সততার মুখোশ পরে ছিলেন, তিনিই কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সবাই হতবাক।
হরু সেদিনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে বলল— মুখোশের দাম বেড়েছে, মুখের দাম কমেছে। আয়নাটা আর কেউ কিনতে চায় না, কারণ সত্য দেখতে সবাই ভয় পায়।
লোকজন এবার আর হাসল না। একজন ফিসফিস করে বলল, কথাগুলো তো মিথ্যা নয়!
কয়েকদিন পর গ্রামের এক বৃদ্ধ শিক্ষক হরুর পাশে বসে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সত্যিই পাগল?
হরু মৃদু হেসে বলল, আমি পাগল নই, মাস্টারমশাই। আমি শুধু সত্যিটা জোরে বলি। যারা মিথ্যাকে স্বাভাবিক মনে করে, তাদের কাছেই সত্যি বলাটা পাগলামি।
শিক্ষক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, তাহলে পাগল তুমি নও, পাগল তো আমরা, যারা সব বুঝেও চুপ করে থাকি।
সেদিনের পর থেকে বাজারের মানুষ আর হরুর কথা শুনে হাসত না। কারণ তারা বুঝেছিল, অনেক সময় সমাজ যাকে ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দেয়, তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে নির্মম সত্য।


TRUTH IS REALLY PRECIOUS!