শ্রীমন্ত পাঁজা

পুজোর পর অবহেলায় পড়ে রয়েছেন দেব সেনাপতি কার্তিক। মায়ের সঙ্গে হাত ধরে মামার বাড়ি এসে মর্তলোকে সপরিবারে পুজো পেলেও মাসখানেকের মধ্যেই ফের এককভাবে পূজিত হন দেব সেনাপতি কার্তিক। কার্তিক মাসের শেষ দিনে সন্তানহীন দম্পতির গৃহে পুত্ররূপে পূজিত হন তিনি।
সাধারণভাবে কার্তিক পুজোর রেওয়াজটা একটু আলাদা। নবদম্পতির গৃহে দীর্ঘ পাঁচ-ছ’বছর সন্তান না এলে প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব কার্তিক ঠাকুর দান করতেন পুজো করার জন্য। এ দৃশ্য বিগত দু’দশক আগে পর্যন্ত দেখা যেত। বর্তমানে অবশ্য এ রীতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, নবদম্পতি গৃহে একবছরও অপেক্ষা না করেই ঠাকুর দান করার রেওয়াজ বেড়েছে। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় বড় বড় ক্লাব, সংগঠনের উদ্যোগে বিশালাকার মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে কার্তিক পুজো করার ছবি আমরা দেখতে পাই।
সাধারণত আমরা দেখি দেবদেবীর পুজোর পর প্রতিমা নদীর জলে অথবা পুকুরে কিংবা খালে বিসর্জন দিতে। নবদম্পতির গৃহে যে সকল কার্তিক পুজো হয়, তা বিসর্জন করার রেওয়াজ নেই। তাই আমরা লক্ষ করি, পথের প্রান্তে বা গাছতলায়, কোথাও গাছের উপরে অথবা অব্যবহৃত কোনও বাড়ির ছাদের কার্নিশে রাতের অন্ধকারে বসিয়ে দিয়ে আসা হয়। ফলে রোদ, জল, ঝড়বৃষ্টিতে কার্তিকের করুণ দুরবস্থা। প্রতিমার রং উঠে যায়, মাথার চুল খসে পড়ে। দেব সেনাপতির বাহন ময়ূর কোথাও মুখ গুঁজে পড়ে থাকে। পূজিত কার্তিকের মাথা ও দেহে কাকপক্ষীর বিষ্ঠা লেগে থাকে, যা দেখে ঘটনাটি খুব অমানবিক মনে হয়। বিশেষত যে দেবতাকে পুত্রসন্তান রূপে পুজো করা হল, তাঁকেই আবার পথের প্রান্তে অসহায়ের মতো যেখানে সেখানে বসিয়ে দিয়ে আসা সামাজিকভাবে বেশ বেমানান লাগে। বিশেষত যখন রোদ-জল, বৃষ্টিতে কার্তিকের রং চটে গিয়ে খড়-কাদা বেরিয়ে আসে, তখন দেব সেনাপতি কার্তিকের করুণ দুরবস্থা বেরিয়ে পড়ে। তা একপ্রকার দৃশ্যদূষণও বটে।
এই সামাজিক দৃশ্যদূষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং পুরসভাকে উদ্যোগ নিতে হবে। পূজিত কার্তিক প্রতিমাগুলিকে দমকলের সাহায্যে জল দিয়ে গলানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাতে যেমন নদী অথবা পুকুরের জলে কেমিক্যাল রং মিশ্রিত হবে না, তেমন সন্তান রূপে পূজিত হওয়া দেব সেনাপতি কার্তিকের অসহায়, করুণ দুরবস্থা আমাদের আর দেখতে হবে না।
