অধ্যাপক ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ

গত বছর যে দুর্গাপুজোর লাল ফিতার ফাঁস খুলতে পারেনি হাইকোর্টে গিয়েও, এ বছর নদিয়ার কামালপুরের অভিযান সংঘ সে পুজো করে দেখাল। গত বছর উচ্চতায় রেকর্ড গড়তে চাওয়া দুর্গা প্রতিমার পুজোয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। ছ’মাস ধরে প্রায় ৪০ জন প্রতিমাশিল্পীর মূর্তি নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে আসার পর থেমে যেতে হয়। গত বছর মহালয়ার দিন কামালপুর গ্রামে নেমে আসে অন্ধকার। সেদিন অভিযান সংঘ পুজো বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে পুজো বন্ধের সমালোচনা করা হয়। কিন্তু পুজো কমিটি প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়তে চায়নি। এ বছর সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে তারা পুজো করতে মনস্থ করেছিল।
কামালপুর গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা চাষাবাদ। একসময় ধান, পাটই ছিল প্রধান ফসল। এখন তার জায়গা নিয়েছে ফুল চাষ। ফুলের চাষে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন বেশি। তার সঙ্গে তাঁরা চেয়েছিলেন এমন একটি দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে, যাতে তাঁদের গ্রামের পরিচিতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গত বছর পুজোর অনুমতি না পেলেও বহু মানুষ কামালপুরে গিয়ে সেখানকার দুর্গামূর্তি, শিবের মূর্তি এবং এক বিশালাকৃতির অসুর শায়িত অবস্থার দেখার জন্য ভিড় করেছিল।
আর এ বছর এখানকার দুর্গা প্রতিমা দূর থেকে দেখলে মনে হয়েছে, যেন আকাশ ছুঁতে চেয়েছে। প্রায় ১০০ ফুট উচ্চতার দুর্গা প্রতিমার অভিনব মূর্তির সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ এবং কার্তিকও ছিল সাজুয্য রেখে। কয়েক বিঘা চাষের জমি নিয়ে এ দুর্গাপুজোর আয়োজন। নাগরদোলা এবং শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা-সহ একটি মেলার আয়োজনও করা হয়।
রানাঘাট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে কামালপুর গ্রাম। দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী টোটো, রিকশা, মোটোরবাইক এবং চারচাকা গাড়ি নিয়ে এই অভিনব দুর্গা প্রতিমা দেখতে এসেছেন। ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবক, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পুলিশি তৎপরতায় সকলে সুন্দরভাবে দুর্গা প্রতিমা দর্শন করে গিয়েছেন। এটা ঠিক, কামালপুর আসার পাকা রাস্তা রয়েছে, কিন্তু দু’টি গাড়ি পাশাপাশি যেতে একটু অসুবিধাই হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের ধৈর্য সব সমস্যার অবসান ঘটিয়েছে। সবাই কামালপুরের এই প্রতিমা দেখে নিরাপদেই বাড়ি ফিরেছেন।
