কুন্তল চক্রবর্তী

আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাজে মোবাইল ফোন মানুষের নিত্যসঙ্গী। বিশেষত যাতায়াতের সময় বাস, ট্রেন বা মেট্রো ট্রেনে যাত্রীদের হাতে ফোন থাকা এখন একেবারে স্বাভাবিক দৃশ্য। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কেউ নিজের ফোন ব্যবহার করার সময় পাশের যাত্রী কৌতূহলবশত মাথার কাছে ঝুঁকে সে ফোনে কী চলছে, তা দেখতে চান। গবেষণায় স্পষ্ট যে, এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে বিভিন্ন শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকি।
দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব
খুব কাছ থেকে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের আলোর দিকে তাকালে চোখে চাপ তৈরি হয়। মাথার কাছে থাকা অন্যের ফোন দেখার সময় সাধারণত স্ক্রিন চোখ থেকে ১৫–২০ সেন্টিমিটারের কম দূরত্বে চলে আসে। এতে চোখে শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যা বাড়ে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অভ্যাস চোখের মাংসপেশিকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ
মোবাইল ফোন থেকে নির্গত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ (EMF) বর্তমানে চিকিৎসা গবেষণার অন্যতম আলোচিত ক্ষেত্র। যদিও স্বাভাবিক ব্যবহার সীমিত ঝুঁকিপূর্ণ, তবু মাথার একেবারে কাছে ফোন রাখা হলে বিকিরণের প্রভাব বাড়ে। অন্যের ফোন মাথা ঝুঁকিয়ে দেখা মানে নিজের অতিরিক্ত বিকিরণের সংস্পর্শে আসা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ সময়ে এর প্রভাব স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক।
মনোসংযোগ ও মানসিক চাপ
অন্যের মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে একটানা তাকালে মনোযোগ ছিন্ন হয়। যাত্রীদের মধ্যে অনেকে ভ্রমণের সময় বিশ্রাম নিতে চান বা নিজস্ব কাজে মনোযোগী থাকতে চান। অন্যের ফোনে বারবার চোখ পড়লে তা মানসিক চাপ ও অস্বস্তি তৈরি করে।
সামাজিক ও নৈতিক দিক
অন্যের মোবাইল ফোন মাথার কাছে গিয়ে দেখা মূলত গোপনীয়তা ভঙ্গের শামিল। এটি অনিচ্ছাকৃত হলেও অন্যকে বিরক্ত বা বিব্রত করতে পারে। সামাজিক শিষ্টাচার রক্ষার জন্য প্রত্যেকেরই উচিত অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা।
দুর্ঘটনার সম্ভাবনা
চলন্ত বাস বা ট্রেনে মাথা নিচু করে অন্যের ফোন দেখার সময় শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে। সামান্য ধাক্কায় পড়ে যাওয়া বা আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বাসে বা ট্রেনে যাতায়াতের সময় অন্যের মোবাইল ফোন মাথা ঝুঁকিয়ে দেখা অভ্যাসগতভাবে ক্ষুদ্র মনে হলেও এর বহুমুখী ক্ষতি রয়েছে। দৃষ্টিশক্তি, বিকিরণজনিত ঝুঁকি, মানসিক চাপ, সামাজিক অস্বস্তি এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনা— সবদিক বিবেচনা করলে বলা যায়, এ আচরণ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। প্রতিটি যাত্রী যদি নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং অন্যের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখান, তবে ভ্রমণ পরিবেশ হবে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ও সভ্য।
