অজয় ভট্টাচার্য

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত শহর বনগাঁ। শহরটির মাঝ বরাবর বয়ে চলেছে ইছামতী নদী। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ধরে দু’দেশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে খেলতে ইছামতী এগিয়ে চলেছে সাগরসঙ্গমে। কোথাও কোথাও ইছামতীর প্রবাহধারাই দু’দেশের সীমানারেখা। কলকাতা থেকে যশোর রোড ধরে বনগাঁয় এলে ইছামতী পার হওয়ার জন্য পথে পড়বে রাখালদাস সেতু। সেতু পার হয়ে একটু এগোলেই পৌছে যাওয়া যাবে ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে। এই পঞ্চায়েতে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে পেট্রাপোল বর্ডার, রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ি ছাড়াও রয়েছে হরিদাসপুর। ঠাকুর হরিদাসের পাদস্পর্শে ধন্য হরিদাসপুর এই পঞ্চায়েতের একটি উল্লেখযোগ্য তীর্থভূমি।
এখানে ইস্কন মন্দিরে রাধামাধব ছাড়াও হরিদাস ঠাকুরেরও ভোগ-আরতি হয়। হরিদাসপুরের খুব কাছাকাছি ছয়ঘরিয়ায় প্রাচীন বটগাছের ছায়ায় দাঁডিয়ে রয়েছে প্রাচীন ভগ্নপ্রায় জোড়া শিবমন্দির। এই মন্দিরের মতোই নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করছে প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোট ঠাকুরদা গৌরহরি বন্দ্যোপাধায়ের বাড়ি। বিখ্যাত এই বাড়িটি শিবমন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির আওয়াজের নাগালের মধ্যেই পড়ে। যদিও এ বাড়ি বা গ্রাম রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান নয়। তিনি জন্মেছিলেন মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে। পড়াশোনা করেছিলেন কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলে। এখান থেকে এন্ট্রান্স পাশ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান কলকাতায়। ১৯০৭ সালে প্রেসিডেন্সি থেকে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে বিএ এবং ১৯১০ সালে ইতিহাস নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন। কিন্তু পারিবারিক দুর্গাপুজোর সময় ফি-বছর তিনি ঠিক চলে আসতেন ছয়ঘরিয়ার এই বাড়িতে। দাদা, দিদি, ভাইবোনদের সঙ্গে পুজোর দিনগুলি হইহুল্লোড় করে কাটাতেন। গ্রামবাসীকে বস্ত্রদান করতেন। দরিদ্রভোজন করাতেন। যাঁরা পুজো দেখতে আসতেন, তাঁদের রাখালদাস নিজে হাতে তদারকি করতেন। আশপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ আসতেন বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির পুজো দেখতে। তাই আজও এলাকার মানুষজন রাখালদাসকে নিজের লোক বলেই মনে করেন।
