Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

মনস্কামনা পূর্ণ হয় শৈবতীর্থ শিবতলায়

এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে শিবতলা মন্দির অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান।শিবরাত্রি এবং নীলপুজো উপলক্ষে এই অঞ্চলে সাজো সাজো রব পড়ে যায়। কারণ স্বয়ং শিব তখন এই মন্দিরে উপস্থিত থাকেন বলে মানুষের বিশ্বাস।

Share Links:

কুন্তল চক্রবর্তী

পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বহু মন্দির। এগুলি বনগাঁ শহরকে ঐতিহ্যে ভরিয়ে দিয়েছে। মন্দিরশহর বনগাঁয় রয়েছে শৈবতীর্থ শিবতলা।

বহুকাল আগের কথা। বনগাঁ শহরে খয়রামারি অঞ্চল ছিল বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ। শিয়াল এবং খরগোশের অবাধ বিচরণ এই অঞ্চলে। ইছামতী নদীর পাশে এই অঞ্চল অবস্থিত। বহুকাল আগে কেউ ইছামতী নদীর তীরে একটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ ফেলে যান। বনগাঁর তৎকালীন মহকুমা শাসক শ্যামসুন্দর দত্ত এবং সমাজের মান্যগণ্য ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত নেন, কোনও নিষ্ঠাবান পূজারিকে দৈনিক পূজার্চনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। তৎকালীন সময়ের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ভোলানাথ ভট্টাচার্যকে এই শিবলিঙ্গ এবং খয়রামারি অঞ্চলে মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দেওয়া হয়। তার উদ্যোক্তা ছিলেন শ্যামসুন্দর দত্ত এবং তৎকালীন বনগাঁ অঞ্চলের মান্যগণ্য ব্যক্তিরা। অশ্বত্থগাছ এবং বেলগাছের নীচে প্রতিষ্ঠিত হয় এই শিবমন্দির। দৈনিক পুজো শুরু হয় এই শিবলিঙ্গের। একসময় এই শিবমন্দিরের সম্পত্তি ছিল কোটি টাকার বেশি। তবে তার তেমন কিছুই এখন আর বর্তমান নেই। কিন্তু মন্দির এবং কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ এখনও রয়েছে। ২০০০ সালের বন্যায় বেলগাছটি মারা যায়। এখানকার শিবলিঙ্গ অত্যন্ত জাগ্রত। মানুষের বিশ্বাস, এই আশুতোষের কাছে প্রার্থনা করলে বা মানত করলে তা বিফলে যায় না। অতি দ্রুত সেই মনস্কামনা পূর্ণ হয়। এই শিবমন্দিরের নাম অনুসারে খয়রামারির এই অঞ্চলের নাম হয়েছে শিবতলা।

শিবের নিত্যপুজোর পাশাপাশি শিবরাত্রি এবং চৈত্রসংক্রান্তিতে এখানে চার প্রহর পুজো হয়। শুধু এই এলাকা নয়, দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে পুজো দিতে। মানুষ মনস্কামনা পূর্ণর জন্য এই মন্দিরে পুজো দিতে আসে। তাই প্রত্যেকদিনই থাকে মানুষের ঢল। সোমবার এই মন্দিরে বহু পুণ্যার্থী আসে পুজো দিতে। ধুতরো, আকন্দ, নীলকন্ঠ ফুলেই সন্তুষ্ট এখানকার মহাদেব। ঘি, মধু, গঙ্গাজল, দুধ, দই, চিনি পুজোর উপাচার।

অন্য পোস্ট: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বামী বিবেকানন্দ

চার প্রজন্ম ধরে এই মন্দিরে শিবপুজো চলছে। বনগাঁর মানুষের ধর্মীয় আবেগ রয়েছে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে। যে কোনও মানুষ এই মন্দিরে পুজো দিতে আসতে পারেন মনস্কামনা নিয়ে। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে এই মন্দির অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান।শিবরাত্রি এবং নীলপুজো উপলক্ষে এই অঞ্চলে সাজো সাজো রব পড়ে যায়। কারণ স্বয়ং শিব তখন এই মন্দিরে উপস্থিত থাকেন বলে মানুষের বিশ্বাস।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুতেই বদল এসেছে। বদল এসেছে পুজোর রীতিতে। দূরের কোনও ভক্ত যদি অনলাইনে পুজো দিতে চান, তাহলে সে ব্যবস্থাও আছে।শিবতলার বর্তমান পূজারি পিনাক ভট্টাচার্য জানান, কেউ যদি অনলাইনে পুজো দিতে চান, তাহলে যে কোনও সময় তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। তাঁর ফোন নম্বর ৮৩৪৩০৮০৫২৮

শৈবতীর্থ শিবতলায় আসার জন্য শিয়ালদা থেকে ট্রেন ধরে বনগাঁ স্টেশনে আসতে হবে। সেখানে পৌঁছে টোটো ধরে শিবতলা আসা যায়। এছাড়া বিরাটি থেকে ডিএন৪৪ রুটের বাস ধরে বনগাঁ এসে টোটোয় শিবতলা আসা যায় । পুজো দেওয়ার সময় সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা এবং বিকেল ৪টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

এই বিভাগে

ভ্রমণ দোঁহা ১০

ভ্রমণ দোঁহা ৯

ভ্রমণ দোঁহা ৮

ভ্রমণ দোঁহা ৭

ভ্রমণ দোঁহা ৬

ভ্রমণ দোঁহা ৫

ভ্রমণ দোঁহা ৪

ভ্রমণ দোঁহা ৩

ভ্রমণ দোঁহা ২

ভ্রমণ দোঁহা