মহাশোরগোল প্রতিবেদন: বহরমপুর ইউনিয়ন ক্রিশ্চিয়ান ট্রেনিং কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ওয়েবসাইপের (WBCIPE) ৩৬তম কালচারাল অ্যান্ড অ্যাথলেটিক মিট অনুষ্ঠিত হল। ২২ এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন ক্রিশ্চিয়ান ট্রেনিং কলেজে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাজ্যের ১২টি শারীরশিক্ষা কলেজ বহরমপুর ইউনিয়ন ক্রিশ্চিয়ান ট্রেনিং কলেজে উপস্থিত হয়। সন্ধ্যায় ১২টি কলেজের প্রায় ১৪০০ ছাত্রছাত্রী এই সান্ধ্যকালীল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। শারীরশিক্ষা কলেজগুলি হল শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে দু’বছরের প্রশিক্ষণের পর উত্তীর্ণরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শারীরশিক্ষা শিক্ষক হিসাবে নিয়োগের যোগ্যতা অর্জন করেন। অর্থাৎ বিভিন্ন খেলাধুলার প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অ্যাডভেঞ্চার ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে শিশুদের কীভাবে ব্যক্তিত্বের বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, সময়ানুবর্তিতা, সামাজিকতা শিখিয়ে ভালো মানুষ গড়া যায়, তা বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের শারীরশিক্ষার শিক্ষক/শিক্ষিকাদের কাছ থেকে শিখে থাকেন। এসব শিক্ষার্থীরা এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় অসাধারণ অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছেন। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, প্রতিটি কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কোরিওগ্র্যাফি থেকে সাজসজ্জা, মঞ্চসজ্জা এবং মেকআপ তাঁরা নিজেরাই করেন। তাঁদের প্রতিটি কলেজের অনুষ্ঠান তীব্র সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। অনুষ্ঠানগুলিতে মূলত ভারতের বিভিন্ন বৈচিত্রময় বিষয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নানা রাজ্যের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয় নৃত্য, গান বিভিন্ন শারীরিক কসরতের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কলেজের সভাপতি, অধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শারীরশিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ-সহ, অধ্যাপকরা, ওয়েবসাইপ কমিটির সভাপতি তথা স্নাতকোত্তর সরকারি শারীরশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণীপুরের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. অসীমকুমার বসু, অধ্যাপক তপনমোহন চক্রবর্তী, ওয়েবসাইপ কমিটির সম্পাদক তথা ইউনিয়ন ক্রিশ্চিয়ান ট্রেনিং কলেজের শারীরশিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অ্যাসোসিয়েট অধ্যাপক ড. শুভব্রত কর।
দ্বিতীয় দিন সকাল সাড়ে ৮টায় বহরমপুর স্টেডিয়ামে ১২টি শারীরশিক্ষা কলেজের এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে অ্যাথলেটিক মিটের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট মাউন্ট এভারেস্ট বিজয়ী পর্বতারোহী সত্যরূপ সিদ্ধান্ত। উপস্থিত ছিলেন বহরমপুর সদর মহকুমার মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায়। এছাড়া ওয়েবসাইপ কমিটির কর্মকর্তারা, বিভিন্ন কলেজের অধ্যাপক ও অধ্যাপিকা এবং প্রতিযোগী ছাত্রছাত্রীরা। পুরুষ বিভাগে ১০টি এবং মহিলা বিভাগে ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পুরুষ বিভাগে সেরা অ্যাথলিট নির্বাচিত হন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশান্ত আহির। মহিলা বিভাগে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন হেস্টিংস হাউসের জেসমিনা খাতুন।
পুরুষদের দলগত বিভাগে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ান হয় স্নাতকোত্তর সরকারি শারীরশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণীপুর এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরশিক্ষা বিভাগ। মহিলা বিভাগে দলগত চ্যাম্পিয়ান হয় State Institute of Physical Education for Women (SIPEW)।
WEST BENGAL COMMITTEE OF INSTITUTES OF PHYSICAL EDUCATION শারীরশিক্ষা কলেজগুলির ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর সরকারি শারীরশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণীপুরে এক সভায় এই অ্যাথলেটিক মিট আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. অরুণকুমার ভট্টাচার্য (ডিন, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. অতীন্দ্রনাথ দে (অধ্যক্ষ, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং কলেজ, বাণীপুর), অধ্যাপক তপনমোহন চক্রবর্তী (O.I.C.PGGIPE, Banipur) এবং ড. অলোক ব্যানার্জি (কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়)। সভায় যে কমিটি তৈরি হয়, তা হল, সভাপতি ড. অরুণকুমার ভট্টাচার্য, সহ-সভাপতি ড. অলক ব্যানার্জি, সম্পাদক ড. অতীন্দ্রনাথ দে এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক তপনমোহন চক্রবর্তী।
প্রথম মিট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে। প্রথম মিটে অংশগ্রহণ করে স্নাতকোত্তর সরকারি শারীরশিক্ষা কলেজ, বাণীপুর, শারীরশিক্ষা বিভাগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বিষ্ণুপুর শারীরশিক্ষা শিক্ষণ কলেজ, ইউনিয়ন ক্রিশ্চিয়ান ট্রেনিং কলেজ, বহরমপুর এবং শারীরশিক্ষা বিভাগ, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতা কোনওরকম সরকারি সাহায্য ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ব্যবস্থাপনার যাবতীয় খরচ বহন করেছিল কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়।
তারপর ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত ওয়েবসাইপ মিটে অধ্যাপক ড. পরিমল দেবনাথের প্রস্তাবে অ্যাথলেটিক মিটের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই বছর থেকেই দু’দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এই অনুষ্ঠানের জন্য প্রথম সরকারি অনুদান পাওয়া যায় ১৯৯০ সালে। ২০১৪ সালে সেই সরকারি অনুদান বন্ধ হয়ে যায়। এত বড় একটি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সরকারি সাহায্য দীর্ঘদিন বন্ধ। আশা করা যায়, শিক্ষা দফতর এ বিষয়ে কোনও ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।




