মহাশোরগোল প্রতিবেদন: বিদ্যালয়ের প্রধান স্তম্ভ হওয়া উচিত শারীরশিক্ষা বা ফিজিক্যাল এডুকেশন। শারীরশিক্ষার মধ্য দিয়ে একজন শিক্ষার্থী যা অর্জন করে, তা অন্য কোনও বিষয় দিতে পারে না, এটা প্রমাণিত। শারীরশিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠন হয়, শারীরিক, মানসিক, প্রাক্ষোভিক, সামাজিক, আধ্যাতিকতার বিকাশ ঘটে। শারীরশিক্ষার অগণিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা, নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাপরায়ণতা, নীতিবোধ প্রভৃতি তৈরি হয়। আর বিদ্যালয়ে এর নেতৃত্বে থাকেন ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষক।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন শিক্ষা কমিশন বসেছে। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার কোঠারি কমিশন গঠন করে এবং সে কমিশন বিদ্যালয়ে শারীরশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল। এছাড়াও নানা সময় বিভিন্ন কমিশন গঠিত হয়েছে এবং শারীরশিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ১৯৭৪ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যালয়ে শারীরশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন দরকার হয় এ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের। ১৯৩২ সালে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম শারীরশিক্ষা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ বালিগঞ্জে প্রথম তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তী সময় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাণীপুরে স্থানান্তরিত হয়েছে।
গত ৩০ জানুয়ারি বাণীপুর স্নাতকোত্তর সরকারি শারীরশিক্ষা কলেজে ছিল ইন্ট্রামুরাল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সবুজে ঘেরা বাণীপুর স্নাতকোত্তর সরকারি শারীরশিক্ষা কলেজের কে এন রায় ক্রীড়াঙ্গনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিধু-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. দীপকরঞ্জন মণ্ডল, হাবড়া পুরসভার পুরপ্রধান নারায়ণচন্দ্র সাহা, টেকনো ইন্ডিয়া কলেজের অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড় পিনাকী দত্ত এবং কলেজের অধ্যক্ষ ড. লক্ষ্মীনারায়ণ কৈবর্ত।
স্নাতকোত্তর সরকারি শারীরশিক্ষা কলেজের বিপিএড প্রথম ও তৃতীয় সেমিস্টার, এমপিএড প্রথম এবং তৃতীয় সেমিস্টারের ছেলেদের চারটি ভবন এবং মেয়েদের দু’টি ভবনে ভাগ করে এই ইন্ট্রামুরাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনের দিন ছিল ছ’টি ভবনের কুচকাওয়াজ প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন ভবনের ক্রীড়া বিষয়ক প্রদর্শনীর প্রতিযোগিতা এবং শেষে দু’টি ভবনের মধ্যে উদ্বোধনী ফুটবল প্রতিযোগিতা।

শারীরশিক্ষার ভাবী শিক্ষকরা হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁদের বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কাবাডি, খো-খো, ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল প্রভৃতি খেলার আয়োজন করেন। তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন খেলার প্রতিভা অন্বেষণ করবেন। তাতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খেলার দল তৈরি করতে সুবিধা হবে। খেলাধুলা ছাড়াও অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সমাজসেবামূলক প্রতিযোগিতাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এসব প্রতিযোগিতায় শুধু খেলোয়াড় অনুসন্ধান করাই নয়, খেলা পরিচালনারও প্রশিক্ষণ পান ছাত্রছাত্রীরা। এরকমই একটি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন স্নাতকোত্তর সরকারি শারীরশিক্ষা কলেজের ছাত্রছাত্রীরা, যাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন যুগ্ম ইন্ট্রামুরাল ডিরেক্টর সহ-অধ্যাপক ড. রুদ্রনাথ চ্যাটার্জি এবং সহ-অধ্যাপিকা রুমা মণ্ডল।

বর্তমানে সমাজের সর্বস্তরে অবক্ষয় চলছে। জ্ঞানী-গুণীরা বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁরাও একই কথা বলেন, যাঁরা পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করেন। আমাদের বিধায়ক, সাংসদরাও বিভিন্ন খেলার অনুষ্ঠানে এসে খেলা নিয়ে আবেগঘন বক্তৃতা দেন। কিন্তু বিধানসভা বা লোকসভায় তাঁরা ফিজিক্যাল এডুকেশন এবং খেলাধুলা নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা করতে ভুলে যান। তাই শিক্ষার একেবারে নিচু স্তর থেকে ফিজিক্যাল এডুকেশন শুরু করতে না পারলে আমরা যেমন সুস্থ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক পাব না, তেমনই সমাজে যুবসমাজ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। ফিজিক্যাল এডুকেশন স্কুল থেকে ভবিষ্যৎ নাগরিকদের নীতিবোধ এবং নৈতিক শিক্ষা দিয়ে সুস্থ-সবল জাতি তৈরি করতে পারে।
