শক্তিকুমার চট্টোপাধ্যায়

অন্যান্যবারের মতো এ বছরও বাঁকুড়ায় আয়োজন করা হয় অভিনব চরিত্রের মুড়িমেলার। বাঁকুড়া ১ নম্বর ব্লকের দ্বারকেশ্বর নদ তীরবর্তী প্রাচীনতম গ্রাম কেঞ্জাকুড়া। তাঁতবস্ত্র, বাসনপত্র, হস্তশিল্পের জন্য এ গ্রাম বিখ্যাত। প্রতিবছর বিশ্বকর্মা পুজোর সময় এ গ্রামের জাম্বো জিলিপি আলোচনার বিষয় হয়ে যায়। ৪ মাঘ এ গ্রামেরই দ্বারকেশ্বর নদের বুকে বসে ‘মুড়িমেলা’। মেলায় মুড়ি পরবে মানুষের ঢল নেমেছিল। বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে তাঁরা অংশগ্রহণ করেছেন এ মেলায়। শতাব্দীপ্রাচীন এমন বিস্ময়কর মেলা দেখলে অবাক হতেই হয়।
দ্বারকেশ্বরের বুকেই রয়েছে সঞ্জীবনী দেবীর মন্দির। তীরেই স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে বৃহদাকার এক চূড়াবিশিষ্ট শিবমন্দিরের নির্মাণকাজ চলছে। বিশাল এলাকাজুড়ে মেলা বসেছিল। নদীর বুকে শুকনো বালির উপর মানুষ সার দিয়ে বসে কাপড় পেতে তাতে চপ, বেগুনি, কলাইভেজা, কলাইভাজা, পেঁয়াজ, মুলো, শশা, টমেটো, আলু সেদ্ধ, নারকেল, আলুর দম, ঘুগনি, কাঁচালঙ্কা, কাঁচা তেল প্রভৃতি সহযোগে মুড়ি মেখে তৃপ্তি করে খেলেন। নদীর বয়ে যাওয়া জল পান করলেন। অনেকেই দু’হাতে বালি সরিয়ে চুঁয়ো খুঁড়ে জল সংগ্রহ করলেন। নদীর বুকজুড়ে শুধুই এ দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। সত্যিই ভারি সুন্দর!
ছোটদের খেলনা, চড়ক, গৃহস্থালির জিনিসপত্র, বেলুন, বাঁশি, বাদামভাজা, পাপড়, মিষ্টির দোকান, সব বসেছিল মেলায়। দুপুরে নরনারায়ণ সেবার আয়োজন হয়েছিল। বাঁকুড়া সদর শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে এমন অভিনব মেলা দেখতে জেলার বাইরে থেকেও বহু মানুষ এসেছিলেন। বসে যাচ্ছিলেন বাঁকুড়ার প্রিয় খাবার মুড়ির স্বাদ পেতে।
