শক্তিকুমার চট্টোপাধ্যায়

দাবা বুদ্ধি, হিসাব, সময়, সঠিক সিদ্ধান্তের ঘরে বসে একটি খেলা। বিশ্বজুড়ে দাবা খেলার খুবই জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইনডোর গেমের অসাধারণ মনোযোগের এই খেলায় মেতে থাকেন বুড়ো থেকে শিশু। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দাবা থাকে। বড়ে, নৌকো, গজ, ঘোড়া, রাজা, মন্ত্রীকে কখন কীভাবে পজিশন দেওয়া হবে, তার ওপর নির্ভর করে দাবা খেলায় হার-জিৎ। কালো-সাদার রকমফেরে ভীষণ লড়াইয়ে দিন কখন রাত হয়ে যায়! অসতর্ক হয়ে ভুল করলেই ‘মাত’। কথায় আছে, ‘ঘোড়ার চাল’ ।
দাবা খেলায় প্রত্যেক ঘুঁটির ক্ষমতা আছে। তবে রাজার চেয়ে মন্ত্রীর ক্ষমতা দাবাতেই বেশি দেওয়া আছে। দাবা ইংরেজিতে ‘চেস’ । সমগ্র বিশ্ব এই খেলা খেলে। রাজায় রাজায় খেলা হয়। জমিদার বাড়িতে খেলা হয়। ক্লাব, পাড়া, পরিবারে দাবা খেলা এখন খুবই জনপ্রিয়। তবে দাবা যাঁরা খেলেন, তাঁদের অধিকাংশই কোনও প্রথাগত চেজ কোচিং না নিয়েই খেলে। তুখোড় দাবাড়ুদের কাছে তাই অপ্রশিক্ষিতরা একেবারে আনাড়ি বনে যান। চেস খেলা শিখতে হয়। না শিখলে বা চেস খেলার প্রথাগত বিদ্যা না থাকলে আন্তর্দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোনও প্রতিযোগিতায় এঁটে উঠতে পারা মুশকিল।
সম্প্রতি দ্রুত বর্ধনশীল আমেরিকান কোম্পানি ব্রিলিও টেকনোলজিস প্রাইভেট লিমিটেডের ডেটা সায়েন্টিস্ট বাঁকুড়া শহরের বিপ্লব কর গড়ে তুলেছেন গড়ে তুলেছেন ‘চেস অ্যাকাডেমি’। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন চেস খেলা শেখার বিশাল আকারের আধুনিকতম প্রতিষ্ঠান। নাম ‘গ্লোবাল স্কুল অব চেস’। তাছাড়াও বিশ্বব্যাপী শুরু করেছেন অনলাইন চেজ শিক্ষণ শিবির। https://gschess.com/ ওয়েবসাইট খুললেই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এই চেস অ্যাকাডেমিতে রয়েছে শংসাপত্রধারী চেস প্রশিক্ষক, চ্যাম্পিয়ন ছাত্ররা, লাইভ অ্যান্ড ইন্টারেকটিভ ক্লাস, পার্সোনালাইজ লার্নিং প্ল্যান, নিরাপদ পরিবেশ। সুতরাং এখন কলকাতা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের অন্য শহরেও আয়োজিত শিবিরে অথবা অনলাইনে চেস খেলা শিখে নেওয়া যায়।
গ্র্যান্ডমাস্টার দিব্যেন্দু বড়ুয়ার ছাত্র কলকাতার একটি ছোট ছেলে অনীশ সরকার মাত্র ৩ বছর ৮ মাসে অসাধারণ ১৫৫৫ রেটিং অর্জন করে বিশ্বের কনিষ্ঠতম ফিডে রেটেড দাবাড়ু হিসাবে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। সে ২০২৪ সালে কলকাতায় টাটা স্টিল চেস টুর্নামেন্টে দাবার দুই কিংবদন্তি ম্যাগনাস কার্লসেন এবং বিশ্বনাথন আনন্দের সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য অর্জন করেছে।
গ্লোবাল স্কুল অব চেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিওও (চিফ অপারেটিং অফিসার) বিপ্লব কর বলেন, দাবা এমন একটি চিরন্তন খেলা, যা ২ বছর থেকে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যক্তিদের জন্যও উপকারী। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মানসিক ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক এবং মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি দূর করতে সাহায্য করে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও দাবা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা উদ্বেগ, রাগ এবং মানসিক চাপের মতো সমস্যার সমাধান করতে সহায়তা করে। দাবা ডিমেনশিয়া এবং আলঝাইমারের মতো রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেগুলি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। মানসিক উদ্দীপনা এবং কৌশলগত চিন্তাভাবনার জন্য দাবা সব বয়সের মানুষের কাছে অমূল্য একটি খেলা। দাবা শুধু একটি খেলা নয়, এটি জীবনকে উন্নত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যা যে কোনও বয়সে শেখা সম্ভব।

Good Promotion of Chess. It’s an excellent Initiative.
CEO Ben Affleck providing chess coaching in Kolkata. With Biplab Kar’s father.
Investor Modon Kar, with the blessings of his father Chodon Kar, with the CEO Ben Affleck.