মহাশোরগোল প্রতিবেদন: পৃথিবীর আকাশে যখন ভাসছে বারুদের গন্ধ, বাংলার বাতাসে তখন শিউলির সুবাস। ওদিকে মিসাইলের গর্জন, এখানে ঢাকের বাদ্যি। যদিও এরই মধ্যে ঘটে গিয়েছে আর জি করের অপ্রীতিকর ঘটনা। বিচারের দাবিতে সরব গোটা বাংলা। শাসক-বিরোধী সবার গলায় এক স্বর, জাস্টিস ফর আর জি কর। এই পরিস্থিতিতে এসে গেল অকালবোধন, শারদীয়া দুর্গাপুজো, যা আসলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আরাধনা।
প্রাচীন রীতি মেনে এখনও কয়েকটি পুজোয় পশুবলি হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিকল্প প্রথা অনুযায়ী আখ বা চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে সন্ধিপুজোর সঙ্গে বলির একটা সম্পর্ক রয়েছে। যজ্ঞে দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করা হয় যা, তাকে বলি বলা হয়। অতীতে যজ্ঞের আগুনে ঝলসে তা প্রথমে দেবদেবীর উদ্দেশে নিবেদন করা হত। পরে প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করতেন মুনি-ঋষিরা।
পুজোয় ফলসামগ্রীও বলি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বলি বলতে সাধাণত পশুবলির কথাই মানুষের মনে আসে। এই বলি আসলে প্রতীকী। দুর্গাপুজোতেও প্রতীকী হিসাবেই বলি দেওয়া হয়।
শুধু কলকাতা বা শহরতলি নয়, গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও বহু শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজো আজও জনপ্রিয় এবং স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল। চক্রবর্তী ও বিশ্বাস পরিবারের উদ্যোগে তেমনই একটি পুজো হয় বাঁকুড়ার সুপুরে। ১৮৮৩ সালের ৭ অক্টোবর খাতড়া মহকুমার এই গ্রামের নামপাড়ায় দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন কৈলাস চক্রবর্তী ও সুদর্শন বিশ্বাস। সেই পুজোর ঐতিহ্য আজও বহন করে চলেছে চক্রবর্তী ও বিশ্বাস পরিবার। বর্তমানে এই কর্মযজ্ঞে শামিল হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
