কুন্তল চক্রবর্তী
বনগাঁ মহকুমার অন্যতম দর্শনীয় স্থান রামচন্দ্রপুরের রামমন্দির। আজ থেকে ৩৫ বছর আগের কথা। স্থানীয় একটি পুকুর খনন করতে গিয়ে এলাকাবাসী একটি পাথরের সন্ধান পান। সেই পাথর পরিষ্কার করলে দেখতে পাওয়া যায় রাম, সীতা এবং হনুমানজির ছবি সেই পাথরে অঙ্কিত আছে। এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেন এই মূর্তিটিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে মন্দির তৈরি করার।
প্রথমে ছোট একটি মন্দির তৈরি করে নিত্যদিনের পূজা অর্চনা শুরু হয়। এভাবে বেশ কয়েকমাস চলার পর হঠাৎ মন্দিরের জানালা ভেঙে পাথরটি চুরি হয়ে যায়। অনেক সন্ধানের পরেও সেই পাথরের সন্ধান মেলেনি। এলাকাবাসী উদ্যোগ নেন রাম, সীতা, হনুমানজির মূর্তি তৈরি করে মন্দির সংস্কার এবং মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠার। তৈরি হয় রামচন্দ্রপুরের রামমন্দির।
দৈনিক সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পূজা অর্চনা চলে।। প্রতিবছর পৌষ মাসের ৭ তারিখে ওই মন্দির প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে সেখানে ধর্মীয় মেলা বসে এবং ১০ দিন ধরে তা চলে। ওই মন্দিরে প্রবেশ করলে একটি অদ্ভুত শান্তি মনের মধ্যে সব সময় বিরাজ করে। মন্দিরে প্রভু রামচন্দ্র এবং হনুমানজির কাছে প্রার্থনা করলে সেই প্রার্থনা খুব শিগগিরই পূর্ণ হয় বলে এলাকাবাসীর অভিমত।
অন্য পোস্ট: জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাঁচির বাগানবাড়ি
ওই মন্দিরে যেতে গেলে বনগাঁ লোকালে বনগাঁ জংশন থেকে রানাঘাটের ট্রেন ধরে গোপালনগর স্টেশনে নেমে যে কোনও অটো বা টোটোয় রামচন্দ্রপুর যেতে হবে। রাস্তার পাশেই ওই মন্দির অবস্থিত। বনগাঁ থেকে গোপালনগরে নেমে রামচন্দ্রপুর গেলেই ওই মন্দিরের সন্ধান পাওয়া যাবে। অযোধ্যা অনেক দূর, তাই চলুন, ঘুরে আসি রামচন্দ্রপুরের রামমন্দির। একদম হাতের কাছেই।

