শক্তিকুমার চট্টোপাধ্যায়

বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণে কংসাবতী নদীর তীরে রয়েছে বেড়ানোর মনোরম জায়গা বড়দি পাহাড়। একরাত থাকতে পারেন। আবার দেখে ফিরেও যেতে পারেন। থাকতে হলে সবেমাত্র গড়ে ওঠা বড়দি পাহাড় ইকো রিসর্টের কটেজ বুক করবেন। মোবাইল নম্বর ৬২৯৪৭৫৪৮৪৯। বড়দি পাহাড় একটি পাহাড় হলেও খুব নিচু। বৃদ্ধরাও সহজে ওঠানামা করতে পারেন।
বড়দি পাহাড়কে টিলা বলাই ভালো। তবে পাহাড়ে ওঠার সংকীর্ণ মোরামের পথ বড্ড সুন্দর। পাইন গাছের সারির মতো লম্বা লম্বা শালের গাছ। তা ছাড়াও বহু ধরনের গাছগাছালি রয়েছে এই পাহাড়ে। পাহাড় ঘেঁষে রয়েছে অনেক নীচে ছবির মতো কংসাবতী নদী। রয়েছে সাদা পাথরের স্তূপ। বড়দি পাহাড় ইকো রিসর্টে ঢোকার জন্য রয়েছে লোহার ফটক। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। যাঁরা প্রকৃতিপ্রেমিক নন, তাঁদের এখানে না আসাই ভালো। নিকটবর্তী গ্রামগঞ্জ বহুদূরে। নিরিবিলি পরিবেশ। যাঁরা রাতে থাকবেন, তাঁদের কেয়ারটেকার ছাড়া কেউ সঙ্গ দেবেন না। হুসহাস বহু শব্দ কানে আসবে। রাতে শেয়াল, খরগোশ নজরে আসতে পারে। গায়ে জোনাকি বসবে। চাঁদনি জ্যোৎস্নায় শুনশান রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসুন। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে যদি বৃষ্টি নামে, তাহলে তো পোয়াবারো। ঝমঝম ঝপঝপ শব্দ আপনার শরীরে মাতন লাগিয়ে দেবে। নীচে খাদে কংসাবতীর জল তখন ফুলবে। সে দৃশ্য আপনি জন্মজন্মান্তরেও ভুলতে পারবেন না। তবে এখন বাঘের ভয় আছে। বাঘ ধরা পড়লে যাবেন।
বাঁকুড়া জেলার সারেঙ্গা ব্লকের বড়দি গ্রামের নাম অনুসারে পাহাড় বা জঙ্গলে ভরা ঘন সবুজ এই টিলার নাম বড়দি পাহাড়। বড়ডিহি থেকেই বড়দি নামটি আসতে পারে। কংসাবতী নদীর ওপারটা রাইপুর ব্লক। বাঁকুড়া রেলওয়ে জংশন থেকে দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। বিষ্ণুপুর, খাতড়া, ঝাড়গ্রাম দিয়েও বড়দি পাহাড়ে আসা যায়। রাস্তা ঝকঝকে পিচের। পিরলগাড়ি মোড় থেকে টোটো বা ছোট গাড়ি পাওয়া যায়। তবে ঠিকমতো দরাদরি করে নেবেন। সবচেয়ে ভালো নিজের ব্যবস্থাপনায় গাড়ি নিয়ে আসা। গাড়ি সাবধানে চালাতে হয়। রাস্তার দু’পাশে আদিবাসী গ্রামে রাস্তার উপর বহু হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল চলাফেরা করে।
বড়দি পাহাড়ে শিশুদের হাত ছাড়বেন না। রিসর্টের উপরে কংসাবতীর তীরে কোনও গার্ডওয়াল নেই। গড়িয়ে গেলে সর্বনাশ!
