Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

বাঁকুড়ার অযোধ্যাও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র

Share Links:

শক্তিকুমার চট্টোপাধ্যায়

উত্তরপ্রদেশের রামজন্মভূমি অযোধ্যার নাম সমগ্র বিশ্ব জানে। তবে পুরুলিয়ার বিখ্যাত শৈলপর্যটনকেন্দ্র অযোধ্যাও ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। আর বাঁকুড়া জেলাতেও একটি অযোধ্যা রয়েছে। এই অযোধ্যাও ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয়। mahashorgol.com পোর্টালে লিখব বলেই সেই গ্রাম অযোধ্যা দেখতে বেরিয়ে পড়েছিলাম। আমার বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই গ্রাম। যাওয়ার সড়কপথে ডানদিকে সারাক্ষণ কৃপারূপ অমৃতের নদ দ্বারকেশ্বর। বাঁদিকে আপ্লাবিত প্রকাশিত সবুজ সবজি খেতের ঢেউ। ভূষণভূষিত সড়কপথে কোথাও স্থানীয় চাষিদের সবজি কেনাবেচার হাট। সঙ্গী ছিল প্রকৃতিপ্রেমী মিলন পাঞ্জা আর আমার পুত্র শঙ্খ।

বিষ্ণুপুর ব্লকের অন্তর্গত একটি বর্ধিষ্ণু গ্রামের নাম অযোধ্যা। বর্তমানে এই গ্রামটি দশহরা উৎসব ও জাগ্রত মনসাদেবীর মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসে পঞ্জিকা মেনে অযোধ্যায় দশহরা উৎসব পালিত হয়। গ্রামে ঢুকতে প্রথমেই নজরে পড়বে বিশাল আটচালা সংলগ্ন সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির নবনির্মিত মনসা মন্দির। এত সুউচ্চ মনসা মন্দির পশ্চিমবঙ্গে আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। প্রতিদিন নিত্যপুজো চলে। মনসা মন্দির ছাড়িয়ে গ্রামের ভিতরে ঢুকে শেষ প্রান্তে নজরে আসবে কালাপাহাড়ের কলুষিত চিহ্ন মধ্যযুগের বহু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। প্রত্যেকটি মন্দিরে রয়েছে বৈষ্ণব স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন। মল্লভূমের বৈষ্ণব রাজারা গ্রামের নাম রাখেন ও অযোধ্যা। এখানে সাড়ে ৩০০ বছরের পুরোনো জমিদার বাড়ি, দ্বাদশ শিবমন্দির, রাসমঞ্চ, গিরিগোবর্ধন মন্দির, পেতলের ছোট রথ, দুর্গামন্দির, নাটমন্দির, রাধাদামোদর মন্দির অবশ্যই দর্শনীয়।

আনুমানিক ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে ভট্টনারায়ণের ৩২তম উত্তরপুরুষ হরি বন্দ্যোপাধ্যায় অযোধ্যায় বসবাস শুরু করেন। এই বন্দ্যোপাধ্যায় বংশধররা ছিলেন কান্যকুজ্ব ব্রাহ্মণ। ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে কর্মবীর রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অর্জিত অর্থে তৌজি, মৌজা-সহ নতুন নতুন জমিদারি কিনে এখানে স্থাপন করেন মন্দির এবং বহুকিছু। ২২টি নীলকুঠি এবং ৪৬টি মৌজার মালিক হয়ে ওঠেন কর্মবীর জমিদার রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮৬০ সালে বন্দ্যোপাধ্যায় বংশের রায়বাহাদুর গদাধর বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদারি আরও বাড়িয়ে অযোধ্যা গ্রামকে জমিদার নগরীতে পরিণত করেন। একসময় সংস্কৃত ভাষা অধ্যয়নের কেন্দ্রবিন্দু ছিল অযোধ্যা। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক হরিসাধন দাস তাঁর ‘বাঁকুড়া দর্পণ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ‘It was center for Sanskrit studies. Large number of old Sanskrit manuscripts of this village is now in Bishnupur Branch of Bangiya Sahitya Parishad.’

জমিদার বাড়ি লাগোয়া বিশাল উচ্চতার রাসমঞ্চ রয়েছে। ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে এই অত্যুচ্চ রাসমঞ্চটি মাতৃ-আদেশে নির্মাণ করেন জমিদার কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন জমিদার নিমাই বন্দ্যোপাধ্যায় ও রঙ্গমণির বড় ছেলে । একসময় অযোধ্যার জমিদার গদাধর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থার হেরফের হতে শুরু করে। ক্ষয় হতে শুরু করে জমিদারি। বন্দ্যোপাধ্যায়দের পরবর্তী বংশধর জমিদারি ছেড়ে অন্যান্য পেশায় চলে যেতে শুরু করেন। অযোধ্যার বসবাস ছেড়ে শহরে চলে যান। ইংরেজ আমলে অযোধ্যার বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের প্রখ্যাত উকিল হন রাসবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু ওকালতি নয়, তিনি ১৯০৩ সাল থেকে ১৯০৮ সাল অবধি বাঁকুড়া পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯০৮ সাল থেকে বেশ কিছু সময় বাঁকুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। মাকুড়গ্রাম-জয়কৃষ্ণপুর রাজ্য সড়কের পাশেই দ্বারকেশ্বর নদের তীরে অবস্থান ঐতিহ্যবাহী এই জমিদার নগরীর। কাছাকাছি রেলস্টেশন বিষ্ণুপুর। যাঁরা বিষ্ণুপুর বেড়াতে আসেন, তাঁরা বিষ্ণুপুর রেলস্টেশনে নেমে গাড়ি ভাড়া করে একপ্রস্থ দেখে বিষ্ণুপুর শহর ঘুরে যেতে পারেন। বিষ্ণুপুর থেকে দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার। বিষ্ণুপুর থেকে বাসেও আসা যায়। জয়কৃষ্ণপুরে নেমে টোটো নিয়ে ঘুরে দেখে আসা যায়। জয়কৃষ্ণপুর থেকে অযোধ্যার দূরত্ব ৬ কিলোমিটার। বাঁকুড়া স্টেশন থেকে দূরত্ব ২৮ কিলোমিটার। তবে অযোধ্যায় থাকার কোনও ব্যবস্থা নেই।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

এই বিভাগে

ভ্রমণ দোঁহা ১০

ভ্রমণ দোঁহা ৯

ভ্রমণ দোঁহা ৮

ভ্রমণ দোঁহা ৭

ভ্রমণ দোঁহা ৬

ভ্রমণ দোঁহা ৫

ভ্রমণ দোঁহা ৪

ভ্রমণ দোঁহা ৩

ভ্রমণ দোঁহা ২

ভ্রমণ দোঁহা