৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারী স্বাধীনতা, নারীমুক্তি, সমকাজে সমমজুরি, কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা রোধ আইনের বাস্তবায়ন, দাম্পত্য কলহ, কন্যাভ্রূণ হত্যা, পণপ্রথা, নারী পাচার, নারী নির্যাতন প্রভৃতি ইস্যু উত্থাপিত হয়ে থাকে।
বর্তমানে সারা বিশ্বে একটি বহুচর্চিত বিষয় লিঙ্গ সংবেদনশীলতা। আমাদের সযত্নে লালিত পালিত পিতৃতান্ত্রিকতায় এখনও অর্থনীতির ভাষায় শ্রমিক একজন ব্যক্তি এবং মজুরি উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ধারিত হলেও বাস্তবে তাঁর সামাজিক পরিচয়ে মজুরি নির্ধারিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও-র গ্লোবাল ওয়েজ রিপোর্ট ২০১৮-‘১৯ থেকে জানা যায়, সারাবিশ্বে পুরুষের তুলনায় নারী গড়ে ২০ শতাংশ কম মজুরি পায়। তাহলে সমকাজে সমমজুরি আইন ১৯৭৬ কি কেবল খাতায় কলমেই থেকে যাবে? কেননা ভারতে গ্রাম-শহরে প্রায় সর্বত্র মজুরির ফারাক রয়ে গিয়েছে। ভারতের অধিকাংশ অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত নারী শ্রমিকরা বিশেষত নির্মাণ শিল্প, স্বর্ণযুক্তি প্রকল্প, ইটভাটা এবং বিড়ি শিল্পে পুরুষদের সঙ্গে একই কাজ করেও সমমজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অর্থনীতির চালকরা বরাবরই মহিলাদের অপেক্ষাকৃত স্বল্পমজুরিতে কাজ করিয়ে মুনাফার পাহাড় গড়ে চলেছেন। কিন্তু মহিলাদের উপযুক্ত প্রাপ্য মিলছে কই? এই মজুরি বা বেতন বৈষম্য প্রায় সব রাজ্যেই রয়েছে। কেরালায় পুরুষ শ্রমিক দৈনিক মজুরি পান ৮৪২ টাকা, মহিলা ৪৩৪ টাকা। পশ্চিমবঙ্গে পুরুষের মজুরি ৩৪২ টাকা এবং মহিলার ২১৯ টাকা। এর ওপর গ্রাম-শহরের মজুরির পার্থক্য তো থাকাই স্বাভাবিক।
অন্য পোস্ট: শঙ্খ ঘোষকে বলেছিলাম, আমি অমিতাভ বচ্চন
মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রে সবেতন ছুটি বাড়লেও বাস্তবে অধিকাংশ মহিলা তার সুফল ভোগ করতে পারছেন না। কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা প্রতিরোধ আইন ১৯৭৬-এ সরকারি অথবা বেসরকারি সংস্থায় দশজনের বেশি কর্মী নিয়োজিত থাকলে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের কথা রয়েছে, কিন্তু তা কার্যক্ষেত্রে হয়নি বললেই চলে।
অন্যদিকে বাড়িতে মহিলারা রাতদিন যে পরিষেবা দিয়ে চলেছেন, সে শ্রমের হিসাবই বা কে রাখছে? সমাজ সচেতন নাগরিকরা কি এসব ভেবে দেখেছেন কখনও? অর্থনৈতিক মানদণ্ডে সেসব শ্রমের মর্যাদার কি স্বীকৃতি তাহলে দেওয়া হবে না? নাকি এটাই ভবিতব্য হিসাবে চিরকাল থেকে যাবে? পরিবর্তনটা আসুক না আমাদের বাড়ি থেকেই। সমমূল্যবোধে উন্নত দৃষ্টিভঙ্গিতে অর্থনৈতিক কর্মে মহিলাদের কাজকে সস্তা বা স্বল্পমজুরিতে সহজলভ্য না করে বৃহত্তর আঙ্গিকে শ্রমের মর্যাদার স্বীকৃতি দেওয়া যায় না কি? ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারতে আমরা সে স্বপ্ন দেখব, নাকি তা অধরাই থেকে যাবে।


খুব ভালো লেখা । বাহবা !