প্রোজ্জ্বল মণ্ডল

১। মেথি গুঁড়ো ১০০ গ্রাম, শুঁঠ (শুকনো আদা) গুঁড়ো ১০০ গ্রাম, হলুদ গুঁড়ো ১০০ গ্রাম মিশিয়ে সেই মিশ্রণকে একচামচ করে সকালে এবং রাতে খালি পেটে গরম জলের সঙ্গে অথবা গরম দুধের সঙ্গে খেতে হবে। দুধের সঙ্গে খাওয়া বেশি উপকারী। এটি অব্যর্থ ওষুধ।
২। শিউলি পাতা ৫টি তুলে নিয়ে ভালো করে শিলে থেঁতো করে ২ গ্লাস জলে মিশিয়ে সেদ্ধ করুন। জল যখন অর্ধেক হয়ে যাবে, সে সময় গ্যাস ওভেন বন্ধ করে সেটা নামিয়ে নিন। জল ১ গ্লাস হয়ে গেলে সেটা ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন এবং প্রতিদিন এভাবে একমাস পান করুন সকালবেলায় খালি পেটে। প্রচুর উপকার পাবেন।
৩। দু’টুকরো ছোট শুঁঠ (শুকনো আদা) নিয়ে তাকে কেটে ছোট ছোট করে নিন। এরপর গিলয়ের ৫ ইঞ্চি কাণ্ডের একটি টুকরো নিয়ে তাকে ছোট ছোট করে কেটে শুকনো আদার সঙ্গে ২ কাপ জলে ফুটিয়ে সেদ্ধ করে নিন। যদি গিলোয় টুকরো অথবা শুঁঠ না পান, তাহলে গিলোয় চূর্ণ ১ চামচ এবং শুঁঠ (শুকনো আদা) চূর্ণ ১/৪ চামচ নিয়ে ২ কাপ জলে ফুটিয়ে সেদ্ধ করুন। জল যখন ফুটে ৪ ভাগের ১ ভাগ হয়ে যাবে, তখন সেটাকে নামিয়ে ছেঁকে নিন। এরপর ওই ক্বাথটিতে গরম অবস্থায় ১ চামচ রেড়ির তেল মিশিয়ে নিন। কিন্তু মনে রাখবেন, ক্বাথটিকে ফোটানোর সময় রেড়ির তেল মেশাবেন না। ছেঁকে নিয়ে গরম অবস্থায় রেড়ির তেল মেশাবেন। তারপর তেলকে ক্বাথের সঙ্গে ভালো করে চামচ দিয়ে মেশাবেন। রেড়ির তেল বাত এবং অস্থিসন্ধির ব্যথার সবেচেয়ে ভালো ওষুধ। এবার এটি সকালে খালি পেটে ৭-৮ দিন খান। তারপর পুনরায় ৫ দিন অন্তর একইভাবে খেতে পারেন। যাঁদের পাতলা পায়খানা হয়, তাঁরা রেড়ির তেল ব্যবহার করবেন না। রেড়ির তেল ব্যবহার না করলে এই ক্বাথটি ১০-১৫ দিন খেতে পারেন। পরে আবার ৫ দিন অন্তর ফের ব্যবহার শুরু করতে পারেন। এই ক্বাথটি সব সময় টাটকা এবং ফ্রেশ করে বানাতে হবে প্রতিদিন। আগে বানিয়ে রেখে দিলে চলবে না। এই ক্বাথ প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। এতে অনেক উপকার পাবেন।
৪। দইয়ের সঙ্গে একচিমটে খাবার চুন মিশিয়ে প্রত্যেকদিন খান।
৫। ব্যথার স্থানে তিলের তেল অথবা খুব পুরোনো ঘি দিয়ে মালিশ করুন।
প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাবে এগুলি জানানো হল। সমস্যা বেশি হলে নিকটবর্তী বৈদ্যের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র: ‘স্বদেশী চিকিৎসা’— রাজীব দীক্ষিত

